চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামিদের প্রকাশ্য চলাফেরার অভিযোগ
বার্তা টুডে ডেস্ক
/ ২৮
বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় :
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ
চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা ও ভাঙচুর মামলার একাধিক আসামি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, নিহতের স্বজন এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে অবস্থান করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ১৪ নম্বর লালখান বাজার ওয়ার্ড এলাকায় এসব মামলার কয়েকজন আসামিকে নিয়মিত চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা নিজ নিজ বাসভবনেও অবস্থান করছেন এবং এলাকায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হত্যা ও ভাঙচুর মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর যুবলীগের সহ-সভাপতি আঞ্জুমান আরা, লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন হাজারী, ক ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউল আজম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক স্বপন এবং আনিসুর রহমান চৌধুরী। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরার অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, মামলার আসামিরা বিভিন্নভাবে সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি কিছু এলাকায় গোপনে দলীয় কর্মসূচি পালন এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু কর্মীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতা বলেন, “হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। এতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও নিহত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।”
নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মামলার অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, আলোচিত এসব মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জনমনে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পলাতক বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন তারা।সম্পাদনা নোট: প্রতিবেদনটি অভিযোগভিত্তিক হওয়ায় প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য যুক্ত করলে সংবাদটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পেশাদার হবে।