শিরোনাম
শুরুর ধাক্কা সামলে অস্ট্রেলিয়ার বড় সংগ্রহ, জয়ের জন্য ১৯৬ চাই বাংলাদেশের জিয়ার আদর্শ আজও প্রেরণা: সিডিএ চেয়ারম্যান দ্বিতীয় রাউন্ডে প্রথম দল হিসেবে মেক্সিকো, কোরিয়াকে হারিয়ে শেষ ৩২ নিশ্চিত শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৯৪ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রাসহ যাত্রী আটক সাতকানিয়ায় জাতীয় ফল মেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন সাতকানিয়া কেরানীহাটে যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত স্থবিরতা কাটিয়ে সিডিএকে দুর্নীতিমুক্ত করতে ‘যুদ্ধ’ শুরু: চেয়ারম্যান বেলায়েত অসুস্থ সাবেক এমপি খালেদা রব্বানীর খোঁজ নিতে বাসভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম কর্মদিবসেই সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের একগুচ্ছ ঘোষণা উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব-স্কাউট শিক্ষক নির্বাচিত
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন

স্থবিরতা কাটিয়ে সিডিএকে দুর্নীতিমুক্ত করতে ‘যুদ্ধ’ শুরু: চেয়ারম্যান বেলায়েত

বার্তা টুডে ডেস্ক / ৪১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেছেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সিডিএর অনেক প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। এসব সংকট কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে তিনি ‘যুদ্ধ’ শুরু করেছেন। একইসঙ্গে অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে সংঘটিত দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিডিএর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি প্রবর্তক মোড় থেকে হিজড়া খাল, কাপাসগোলা, চাক্তাইসহ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন খাল পরিদর্শন করেন। পরে কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক এবং শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে বেলায়েত হোসেন বলেন, সিডিএতে দীর্ঘদিন ধরে স্থবিরতা বিরাজ করছে। অনেক প্রকল্প শেষ হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। অত্যাধুনিক মার্কেট নির্মাণ করা হলেও সেগুলো চালু হয়নি, ফলে সেখান থেকে কোনো ভাড়া আদায় হচ্ছে না। অন্যদিকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেও অনেকেই টোল পরিশোধ করছেন না, যার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং সিডিএকে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ শুরু করা হয়েছে। এ কাজে নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প সম্পর্কে সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, প্রকল্পের আওতাধীন ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও পাঁচটি খালের কাজ প্রায় ৬৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বহুতল ভবন, অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদ করে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। একসময় চাক্তাই খাল নগরবাসীর জন্য অভিশাপ ছিল, কিন্তু আধুনিক সুইস গেট নির্মাণের ফলে এটি এখন আশীর্বাদে পরিণত হবে। আসন্ন বর্ষা মৌসুম থেকেই নগরবাসী প্রকল্পটির সুফল পেতে শুরু করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ সময় নগরবাসীর প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খালে-নালায় বর্জ্য ফেলা বন্ধ না হলে কোনো প্রকল্পেরই পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন খালগুলোর খনন ও সংস্কার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহরের সব খাল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এলে জলাবদ্ধতা নিরসনে শতভাগ সুফল মিলবে।

শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রসঙ্গে বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রকল্পটিকে লাভজনক ও টেকসই করতে হলে সবাইকে নিয়ম মেনে টোল পরিশোধ করতে হবে। তিনি নিজেও এদিন টোল দিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেছেন উল্লেখ করে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হলেই সবকিছু বিনামূল্যে ব্যবহার করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে কারা টোল না দিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করছেন তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক নিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, এ সড়ক চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। বিশেষ করে বোয়ালখালীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ যানজট এড়িয়ে সহজে নগরে যাতায়াত করতে পারবেন। একইসঙ্গে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট কমবে এবং পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে। এতে সময় ও অর্থ উভয়েরই সাশ্রয় হবে।

তিনি আরও বলেন, কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী এলাকাটি ইতোমধ্যে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নগরবাসীর অবসর কাটানোর পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় এ অঞ্চল নতুন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। ডিসেম্বরের মধ্যে সড়কের অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেখানে পর্যটকবান্ধব নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি, অবৈধ দখল ও দীর্ঘদিনের স্থবিরতা থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে মুক্ত করে একটি গতিশীল, নান্দনিক ও পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন সংস্থায় রূপান্তর করাই তার প্রধান লক্ষ্য। যারা সিডিএতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের খুঁজে বের করা হবে এবং যারা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছে, তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসীনুল হক, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ