চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে হত্যার আলোচিত মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম। রোববার (২১ জুন) ভোরে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি থানাধীন দুপছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি মো. আইয়ুব আলী (৪৫) রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকার শমসের পাড়ার মৃত আব্দুল মোনাফের ছেলে। তিনি হত্যা মামলার এজাহারের ৯ নম্বর আসামি।
র্যাব-৭ জানায়, নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উপজেলার মধ্য বেতাগী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এবং নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা থাকায় তাকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৩ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে মাসুদ ব্যবসায়িক কাজে রাউজান থানাধীন ৯ নম্বর পাহাড়তলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারে আশরাফিয়া ফার্মেসির সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি সিএনজিযোগে ঘটনাস্থলে এসে পিস্তল ও শটগান দিয়ে মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়। ঘটনার পর থেকেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে র্যাব।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় ১১ জনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে ৩০২/৩৪ ধারায় পেনাল কোড, ১৮৬০ অনুযায়ী রুজু করা হয়।
র্যাব জানায়, চলমান নজরদারির একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, মামলার পলাতক এজাহারভুক্ত আসামি আইয়ুব আলী রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ জুন ভোর আনুমানিক সাড়ে ৬টায় র্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল দুপছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব আরও জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।