শিরোনাম
টেন্ডারে বাদ, পরে অপারেটর—কীভাবে? কুতুবদিয়া-বহির্নোঙরে জাহাজ বরাদ্দ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন বিরোধ পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর বায়েজিদ লিংক রোড থেকে ৮ হাজার ২৮৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ রোহিঙ্গা গ্রেফতার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চন্দনাইশ পৌরসভার খসড়া মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন, চিহ্নিত ৯ ওয়ার্ডের নানা সমস্যা পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, রেল যোগাযোগ বন্ধ ওয়াগ্গা ইউনিয়নের উন্নয়নে ৮ দফা পরিকল্পনা নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মাইনুল ইসলাম ফাহাদ চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের পুনর্বহালের দাবিতে পটিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ জিয়া-খালেদার পর এবার জাতিসংঘে তারেক রহমান গোমদণ্ডী পাইলট মডেল স্কুলে দায়িত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

সাতকানিয়ায় কার্ড মিটারে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ভোগান্তি, এনালগ মিটার চান গ্রাহকেরা

মিজানুর রহমান রুবেল সাতকানিয়া প্রতিনিধি / ১৯৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

সাতকানিয়ায় প্রিপেইড (কার্ড) মিটারে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন গ্রাহকেরা। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রিচার্জ করার পর দীর্ঘ টোকেন নম্বর, টোকেন প্রবেশে জটিলতা এবং বিভিন্ন চার্জ কেটে নেওয়ার অভিযোগে অনেক গ্রাহক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসব কারণে অনেকেই আবারও এনালগ বা পোস্টপেইড মিটার চালুর দাবি তুলছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) সাতকানিয়া অঞ্চলের অধিকাংশ গ্রাহক বর্তমানে প্রিপেইড বা কার্ড মিটার ব্যবহার করছেন। তবে রিচার্জের পর প্রাপ্ত টোকেন নম্বর প্রবেশ করা এবং রিচার্জকৃত অর্থের বিভিন্ন খাতে কর্তনের বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকেরা।

কেরানীহাট এলাকার এক দোকানদার জানান, গত ১৩ জুন তিনি তার কার্ড মিটারে ১ হাজার টাকা রিচার্জ করেন। পরে মোবাইলে পাওয়া বার্তায় দেখা যায়, রিচার্জকৃত অর্থের মধ্যে এনার্জি কস্ট ৭৭৭ টাকা, ডিমান্ড চার্জ ১৮০ টাকা, ভ্যাট ৪৭ টাকা এবং রিভ্যাট ৪ টাকা হিসেবে মোট ২২৩ টাকা কর্তন করা হয়েছে। এতে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, বিকাশ, নগদ বা অন্যান্য মাধ্যমে টাকা রিচার্জ করার পর মোবাইলে একাধিক টোকেন নম্বর আসে। কখনো কখনো ২০ থেকে ২৪০টি পর্যন্ত ডিজিট প্রবেশ করাতে হয়, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ জটিল হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ৫০০ টাকা রিচার্জ করলেও অনেক সময় তা মিটারে গ্রহণ না করে পুনরায় বেশি পরিমাণ অর্থ রিচার্জ করতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মিটার রিডার সেলিম উদ্দিন বলেন, “কার্ড মিটারের গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায়ই ফোন আসে। অনেকেই অভিযোগ করেন যে টাকা রিচার্জ করার পর মিটারে ঢুকছে না কিংবা একাধিক টোকেন নম্বর আসায় সেগুলো প্রবেশ করাতে সমস্যায় পড়ছেন।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া বিপিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী সুভন ভৌমিক বলেন, “সাতকানিয়ায় মোট প্রায় ২২ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৯ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড (কার্ড) মিটার ব্যবহার করেন এবং বাকি গ্রাহকেরা পোস্টপেইড সেবার আওতায় রয়েছেন।”
তিনি জানান, কিছু নিয়ম জানা থাকলে সহজেই প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ সম্পন্ন করা সম্ভব। টোকেন নম্বর প্রবেশে ভুল হলে মিটারে ৮৮৯ চাপলে প্রয়োজনীয় সিকোয়েন্স দেখা যায়। এছাড়া রিচার্জের পর পাওয়া দীর্ঘ ডিজিট একসঙ্গে না দিয়ে ২০টি করে প্রবেশ করলে সহজে রিচার্জ সম্পন্ন করা যায়।

অতিরিক্ত টাকা কর্তনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিটারের চার্জ কাঠামো ভিন্ন। বাণিজ্যিক মিটারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ডিমান্ড চার্জ এবং ভ্যাট প্রযোজ্য হয়। ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী এসব চার্জ কাটা হয়। অতিরিক্ত অর্থ কর্তনের কোনো সুযোগ নেই। কোনো গ্রাহক সমস্যায় পড়লে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।”

তবে ভোগান্তি ও জটিলতা কমাতে অনেক গ্রাহক সহজ ও ঝামেলামুক্ত পোস্টপেইড বা এনালগ মিটার ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রিপেইড ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ