শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ সাতকানিয়ায় বারোমাসি তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য, বাড়ছে মার্সালো-আস্তা-ব্ল্যাকবেবির চাহিদা সাতকানিয়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মহড়া হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে মানবজীবন সুন্দর করা সম্ভব: রনজিত কান্তি দেব দুর্গাপূজায় দর্শনার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে নিজ অর্থায়নে সড়ক মেরামত করছেন শাহাদাত হোসাইন ৩০০ বছরের পুরোনো পূজামণ্ডপ প্রথমবার একসঙ্গে পরিদর্শন করলেন চট্টগ্রামের ডিসি-এসপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে: ডিসি জাহিদুল ইসলাম  দুর্গাপূজাকে ঘিরে গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে-এসপি মাসুদ রাঙ্গামাটিতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে জামায়াতের মতবিনিময় সভা, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতিতে গুরুত্ব চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের দুই নেতার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন

গোলপোস্টের আঘাতে প্রাণ গেল এনায়েতের

মিজানুর রহমান রুবেল সাতকানিয়া প্রতিনিধি / ৩০২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় টার্ফে ফুটবল খেলতে গিয়ে মাথার ওপর লোহার গোলপোস্ট ভেঙে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ (১২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা গেছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত এনায়েত উল্লাহ সাতকানিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সতিপাড়ার বাসিন্দা দর্জি হারুনুর রশিদ (বাদশা) আলম ও লাকী আক্তারের একমাত্র ছেলে। তিনি সাতকানিয়া টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সাতকানিয়া পৌরসভার ডলু ব্রিজের পশ্চিম পাশে এরাবিয়ান কনভেনশন হলের সামনে একটি টার্ফে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলছিল এনায়েত। খেলার একপর্যায়ে গোলপোস্টে ঝুলে থাকার চেষ্টা করলে লোহার গোলপোস্টটি ভেঙে তার মাথার ওপর পড়ে। এতে সে গুরুতর আহত হয়।

পরে তাকে উদ্ধার করে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে আইসিইউ শয্যা না পাওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে আর্থিক সংকটের কারণে আবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুর পর শোকে ভেঙে পড়া মা লাকী আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার পাঁচ সন্তানের মধ্যে প্রথম চারজন মেয়ে। অনেক প্রতীক্ষার পর এনায়েত আমার একমাত্র ছেলে হিসেবে জন্ম নেয়। মানুষের বাসায় কাজ করে কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করিয়েছি। তার কোনো আবদার অপূর্ণ রাখিনি। আজ আল্লাহ আমার সন্তানকে নিয়ে গেল।”

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে এনায়েত ছিলেন একমাত্র ছেলে। চার বোনের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়েছে এবং অপর একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী।

সাতকানিয়া টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, “এনায়েত অত্যন্ত ভদ্র, নিয়মিত ও মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”

শ্রেণিশিক্ষক উম্মে সালমা সুলতানা বলেন, “সে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসত এবং পড়াশোনায় ভালো ছিল। তার অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”

এনায়েতের চাচা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “দুর্ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। যারা আর্থিকভাবে এবং অনলাইন-অফলাইনে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, “মাথায় গোলপোস্ট পড়ে আহত হওয়ার পাঁচদিন পর এনায়েতের মৃত্যু হয়েছে। তার অকাল মৃত্যুতে বিদ্যালয় ও পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

এদিকে এনায়েতের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান তার বাবা-মা। এলাকাবাসী এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে টার্ফ ও খেলার মাঠে ব্যবহৃত গোলপোস্টসহ অন্যান্য অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ