শিরোনাম
সরকার ও বিত্তবানদের এই দুর্যোগে বাঁশখালীবাসীর পাশে থাকার আহবান বিরোধীদলীয় নেতা ডাঃ শফিকুর রহমান সাতকানিয়ায় পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি সাবস্টেশনে বন্যার পানি, ১৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বিমানবন্দরের রানওয়ে সুরক্ষায় ১২ নম্বর খাল পুনঃখনন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্যাকবলিত সাতকানিয়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জামায়াত আমীর, ত্রাণ ও নগদ সহায়তা বিতরণ বাঁশখালীতে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস জামায়াত আমীরের শিলকুপে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এনামুল হক, ঘরে ঘরে পৌঁছাচ্ছে ত্রাণ চন্দনাইশে দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে জলাবদ্ধতায় ঘরবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীর, চলবে ত্রাণ কার্যক্রম সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বাঁধ ভেঙে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি হাজারো পরিবার পুকুরিয়ায় পানিবন্দি পরিবারের পাশে জামায়াত, বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭ অপরাহ্ন

টানা বর্ষণে মাতারবাড়িতে জলাবদ্ধতা: এমপির নির্দেশে সুইচগেট খুলে জরুরি পানি নিষ্কাশন

স্থায়ী সমাধানের দাবি স্থানীয়দের / ৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের কক্সবাজার

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম পরিচালনা করে।

প্রশাসনের উদ্যোগে রাঙ্গাখালী, ছোয়াখালী, ছুরোবর ঘোনা এবং উত্তর পাশের ব্যাঙ ঘোনা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সুইচগেট খুলে দেওয়া হয়। এতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত সাগর ও সংযুক্ত জলপথে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন এলাকার পানি কমতে শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা বর্ষণের কারণে মাতারবাড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল, গ্রামীণ সড়ক ও বসতবাড়ির আঙিনায় পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে সুইচগেট খুলে দেওয়ায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়েছে এবং জলাবদ্ধতার তীব্রতা অনেকটাই কমেছে। তারা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই মাতারবাড়ির বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি ঘটে। খাল, নালা ও প্রাকৃতিক পানি চলাচলের পথ ভরাট হয়ে যাওয়া, সংকুচিত হওয়া এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অল্প সময়ের ভারী বর্ষণেই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। তাই শুধু জরুরি পানি নিষ্কাশন নয়, খাল পুনঃখনন, পানি প্রবাহের পথ সংরক্ষণ, সুইচগেটের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।

স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, তাৎক্ষণিক উদ্যোগের পাশাপাশি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাতারবাড়ির জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি স্থায়ী ও বিজ্ঞানভিত্তিক মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করবে। এতে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ, কৃষিক্ষতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিঘ্ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ