মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা পঞ্চম দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ডলু ও সাঙ্গু নদী এবং হাঙ্গর খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করায় উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান, দস্তিদারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক ডুবে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাসমতের দোকান এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং ডলু, সাঙ্গু নদী ও হাঙ্গর খালের পানি আরও বৃদ্ধি পেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বন্যার পানিতে উপজেলার পৌরসভা, ঢেমশা, কেওচিয়া, ছদাহা, সোনাকানিয়া, কাঞ্চনা, নলুয়া, আমিলাইশ, বাজালিয়াসহ ১৭টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অধিকাংশ এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে বন্যার পানিতে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া থানা, সাতকানিয়া আদালত এবং সাতকানিয়া সরকারি কলেজ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশও প্লাবিত হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত সাইক্লোন শেল্টারগুলো খুলে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে, টানা বর্ষণ এবং ডলু ও সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।