শিরোনাম
লোহাগাড়া প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন: আহবায়ক মনির- সদস্য সচিব পুষ্পেন যার হাতে তৈরি নৌকায় বাঁচে মানুষ, সেই ভেট্টা মেস্তীরির পরিবার আজ খোলা আকাশের নিচে চন্দনাইশে বন্যাদুর্গত দেড় সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ত্রাণ বিতরণ নান্দনিক চট্টগ্রাম গড়ার প্রত্যয়ে চন্দনাইশে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন চট্টগ্রামে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু, প্রথম দিনেই সরানো হলো ১৩৫ টন বর্জ্য পিআইজির প্রশিক্ষণে এমপি আবু সুফিয়ান: সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রস্তাব সংসদে তুলবেন বর্ষায় ডেঙ্গু ও রোগজীবাণু প্রতিরোধে শাহ আমানত বিমানবন্দরে দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান বহিঃনোঙরে চুরি-পাইরেসি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কোস্ট গার্ড বন্যাদুর্গত শীলকূপে এনামুল হকের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসাসেবা পেলেন ১,২০০-এর বেশি মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে নৌবাহিনী প্রধান, আধুনিক বাহিনী গঠনে গুরুত্বারোপ
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন

যার হাতে তৈরি নৌকায় বাঁচে মানুষ, সেই ভেট্টা মেস্তীরির পরিবার আজ খোলা আকাশের নিচে

বার্তা টুডে ডেস্ক / ২৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ৭ নম্বর সরল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিনজিরিতলা খালাইচ্ছ্যার পাড়ার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ, যিনি এলাকায় ‘ভেট্টা মেস্তীরি’ নামে অধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কাঠের নৌকা ও বোট তৈরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বন্যা কিংবা দুর্যোগের সময় মানুষের যাতায়াত ও জীবন রক্ষায় ব্যবহৃত অসংখ্য নৌকা তাঁর হাতেই তৈরি হয়েছে। কিন্তু পরিহাসের বিষয় হলো, অন্যের প্রয়োজন মেটাতে জীবন কাটানো এই কারিগরের নিজের পরিবারের জন্য আজ একটি নিরাপদ মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে নৌকা নির্মাণের কাজ করলেও আর্থিক সংকট কখনোই কাটিয়ে উঠতে পারেননি নুর মোহাম্মদ। সামান্য আয়ে কোনো রকমে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। এরই মধ্যে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় তাঁর একমাত্র বসতঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরের মেঝে ও চারপাশ কাদায় ভরে যাওয়ায় সেখানে বসবাস প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে পরিবারটি চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। আশপাশের অনেক পরিবারের ঘর থেকে পানি নেমে গেলেও ভেট্টা মেস্তীরির বসতভিটায় এখনো প্রায় এক ফুট পানি ও কাদা জমে রয়েছে। ফলে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে, কাদামাটির মধ্যেই দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের। বৃষ্টি নামলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে প্রতিটি রাতই কাটছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বহুদিন ধরে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দাতব্য ও মানবিক সংগঠনের কাছে একটি ছোট্ট ঘর নির্মাণে সহযোগিতা চেয়ে আসছেন। কিন্তু নানা জায়গায় আবেদন করেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সহায়তা পাননি। অর্থাভাবে নিজেরাও নতুন ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একজন মানুষ যিনি নিজের শ্রম ও দক্ষতা দিয়ে অসংখ্য নৌকা তৈরি করে দুর্যোগকবলিত মানুষের চলাচল সহজ করেছেন এবং অনেকের জীবন রক্ষায় পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছেন, আজ সেই মানুষটির নিজের পরিবারই নিরাপদ আশ্রয়হীন। এমন বাস্তবতা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং সমাজের জন্যও লজ্জার।

এলাকার সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, একটি মানবিক উদ্যোগই পারে এই অসহায় পরিবারটির ভাগ্য বদলে দিতে। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, প্রবাসী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে এলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবারটির জন্য একটি নিরাপদ বসতঘর নির্মাণ সম্ভব।

স্থানীয়দের দাবি, মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে ভেট্টা মেস্তীরির পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। যে মানুষটি বছরের পর বছর অন্যের প্রয়োজন পূরণে নৌকা বানিয়েছেন, তাঁর নিজের পরিবারের জন্য অন্তত একটি নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তাঁদের এই আর্তনাদ সংশ্লিষ্টদের হৃদয় স্পর্শ করবে এবং অসহায় পরিবারটি একটি নিরাপদ ঘর পাবে—এমন প্রত্যাশাই স্থানীয়দের।

যোগাযোগ মোবাইল নাম্বার 01615110852


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ