চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আগে উপজেলার জনগণের উদ্দেশে এক আবেগঘন বিদায় বার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি প্রায় এক বছরের দায়িত্ব পালনের নানা অভিজ্ঞতা, মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং বাঁশখালীর প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন।
বার্তায় তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে এসে কখন যে বাঁশখালীর মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসায় আপনজন হয়ে উঠেছেন, তা নিজেও বুঝতে পারেননি। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হিসেবে নয়, বরং এই জনপদের একজন মানুষ হয়ে সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পালনকালে গভীর রাতের অভিযান, জনঅভিযোগের তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি, মাদক, জুয়া ও ভূমি-সংক্রান্ত অনিয়ম দমনসহ জনস্বার্থে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমে মানুষের আস্থা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।
বিদায়ী এই কর্মকর্তা জানান, গত ৫ জুলাই তাঁর বদলির আদেশ হলেও একই সময়ে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালী ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কর্মস্থল ছাড়েননি। বরং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের স্বার্থে অনেক সময় কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আইন ও বাস্তবতার কারণে সবার প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর কোনো সিদ্ধান্ত বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
বিদায় বার্তায় তিনি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, বাঁশখালী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক, শিক্ষক, সুধীজন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মো. ওমর সানী আকন বলেন, কর্মস্থল বদলে গেলেও বাঁশখালীর মানুষের ভালোবাসা ও স্মৃতি তাঁর হৃদয়ে আজীবন অম্লান থাকবে। নতুন কর্মস্থলেও সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও মানবিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
বিদায় বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, “কর্মস্থল বদলে যায়, পদবি বদলে যায়, দায়িত্ব বদলে যায়; কিন্তু মানুষের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও হৃদয়ের টান কখনো বদলায় না। বাঁশখালী আমার কর্মস্থল ছিল, কিন্তু আজীবন এটি আমার হৃদয়ের একটি প্রিয় ঠিকানা হয়ে থাকবে। বিদায় নয়—আবার কোনো না কোনোভাবে, কোনো না কোনো প্রেক্ষাপটে দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ।”