চট্টগ্রামের পটিয়ায় চোরাই সিএনজি অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে চারটি চোরাই সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. নুরুল আমিন (৩০), উজ্জ্বল মিয়া (৩৬) ও রিমন আহমদ (২৭)। উদ্ধার হওয়া চারটি অটোরিকশার মধ্যে তিনটির কোনো নম্বর ছিল না। অপরটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর চট্টমেট্টো-থ-১১-৪৩৪৩।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চোরাই যানবাহন চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে জেলা পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে পটিয়া থানা পুলিশ গোপন তথ্য, গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে চোরাই সিএনজি অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে।
পুলিশ জানায়, পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হকের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. আখতার হোছাইন, এএসআই (নিঃ) মীর মো. মনির হোসেন, এএসআই (নিঃ) আল আমিন খান ও সঙ্গীয় ফোর্স কয়েকদিন ধরে চক্রটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২ আগস্ট দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে পটিয়া পৌরসভার বাহুলী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন কৃষি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্ব পাশে ফাতেমা মোটরসের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
অভিযানকালে চোরাই সিএনজি অটোরিকশা কেনাবেচার সময় তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে হেফাজত থেকে চারটি চোরাই সিএনজি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধ চোরাই যানবাহন চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চক্রটি বিভিন্ন এলাকা থেকে অটোরিকশা চুরি বা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে সেগুলো গোপনে ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চক্রটির কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য যাচাই এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া অটোরিকশাগুলোর প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি চোরাই যানবাহন সংগ্রহ, পরিবহন ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, চোরাই যানবাহন ক্রয়-বিক্রয়, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। গোয়েন্দা তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান এবং ধারাবাহিক আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এসব অপরাধচক্র নির্মূলে জেলা পুলিশ পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।