শিরোনাম
নিনর্বাচনের আগে হাসিনা-সহযোগীদের রায় হয়নি- প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল জুলাই গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে: ব্যারিস্টার সরোয়ার জুলাই-যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত কোস্টগার্ডের জব্দ সারের অংশ বিক্রির অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন হাটহাজারীতে প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে ঐক্যবদ্ধ নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়ন বিএনপি জনগণের জন্য উৎসর্গীকৃত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়াই জুলাইয়ের মূল লক্ষ্য: মীর হেলাল জুলাই সনদের আলোকে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মীর হেলাল যথাযোগ্য মর্যাদায় পটিয়ার বায়তুশ শরফ শাহ জব্বারিয়া মাদ্রাসায় গণঅভ্যুত্থান দিবস চন্দনাইশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন সাতকানিয়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন

মাকসুদুল হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার পিস্তল-ম্যাগাজিন ও গুলি

বার্তা টুডে ডেস্ক / ৩৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রে বড় আঘাত হানা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাউজান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন—রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজান এলাকার মো. দিদার আলম (৩০) ও মো. আফসার মিয়া (৩০)।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চক্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ নির্মূলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং পেশাদার আভিযানিক কৌশলের সমন্বয়ে এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

গত ১৩ জুন চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে নিবিড় তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ আগস্ট রাত ৭টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার শীতলপুর এলাকায় শাহ আমিন উল্লাহ ফিলিং স্টেশনের সামনে স্থাপিত বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দিদার আলম ও আফসার মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার দুজন দীর্ঘদিন ধরে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দিদার আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন থানায় মোট ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে আফসার মিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধে মোট ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত একাধিক চাঞ্চল্যকর অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানায় পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩ আগস্ট রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে রাউজান থানার ৭ নম্বর রাউজান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান জুরুলকুল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় আমির হোসেন ফকির বাড়ির মানিক নামে এক ব্যক্তির বসতঘরের পেছনে সেফটি ট্যাংক সংলগ্ন মাটির নিচে সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৭ দশমিক ৬৫ ক্যালিবারের দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান এবং পেশাদার আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ