শিরোনাম
কালুরঘাট সেতু প্রকল্প পরিচালকের কাঁধে পূর্বাঞ্চল রেলের ভারপ্রাপ্ত জিএমের দায়িত্ব চউকের অভিযানে সাবেক মেয়র রেজাউলের ভবনসহ ৭টিতে ২৭ লাখ টাকা জরিমানা আনোয়ারার বেলচুড়া আদর্শ গ্রাম সড়ক: ৪০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই ১৮৫ দেশ ভ্রমণে নাজমুন নাহার, লাল-সবুজ পতাকা হাতে বাংলাদেশের অনন্য গৌরব এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন অভিনেত্রী নওরিন পটিয়ায় ক্বলবুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অফিস উদ্বোধন বেপজা নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা: সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার খসড়া মহাপরিকল্পনা নিয়ে চউক ও পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের মতবিনিময় সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ৪১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি গঠন চট্টগ্রামে নৌবাহিনী-ফায়ার সার্ভিসের যৌথ মহড়া, রাসায়নিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাড়ছে প্রস্তুতি
বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

গুলশান-বনানী লেক পুনরুদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

বার্তা টুডে ডেস্ক / ৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

ঢাকার গুলশান-বনানী লেককে দূষণমুক্ত করে এর স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, স্থানীয় কমিউনিটি ও অন্যান্য অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে লেক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (DNCC) ষষ্ঠ তলার মিনি অডিটোরিয়ামে রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ কনসালটেন্টস লিমিটেড (RDRC) ও DNCC-এর যৌথ উদ্যোগে রি-ওয়েট (ReWET) প্রকল্পের ‘অভিজ্ঞতা বিনিময় (Knowledge Exchange)’ অনুষ্ঠানে এসব কথা উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে গুলশান-বনানী লেক পুনরুদ্ধার, নগর জলাভূমির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নগর কৃষি, নেচার-বেইজড সলিউশন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও এর মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশের অন্যান্য শহুরে জলাভূমিতে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়েও আলোচনা করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন DNCC-এর প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, পিএসসি। প্রধান অতিথি ছিলেন DNCC-এর প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রি-ওয়েট প্রকল্পের কো-লিড ও যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথ কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইফাদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের IIED-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার বেথ ডাউনি।

মূল প্রবন্ধে ইফাদুল হক বলেন, রি-ওয়েট একটি এভিডেন্স-বেসড আরবান ওয়েটল্যান্ড রেস্টোরেশন মডেল। গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করে শহুরে জলাভূমির পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধানের জন্য প্রকল্পটি কাজ করছে।

তিনি জানান, প্রকল্পের ডেমোনস্ট্রেশন গ্রাউন্ডে প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ সেমি-সার্কুলার বাঁশের কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে ২৩ ধরনের টুলকিট পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাছ চাষের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভেজিটেশন ও ফ্লোটিং গার্ডেন স্থাপনের মাধ্যমে জলাভূমির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নগরবাসীর খাদ্যনিরাপত্তায় অবদান রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

RDRC-এর ট্রেজারার মো. আমিনুর রসুল বলেন, রি-ওয়েট প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে গুলশান-বনানী লেকে প্রাণ-প্রকৃতির উপস্থিতি বেড়েছে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও কার্যকর মডেল যথাযথভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের অন্যান্য শহুরে জলাভূমিতেও তা প্রয়োগ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, DNCC প্রকল্পটির মালিকানা গ্রহণ করে কার্যকরভাবে গাইড করলে এর সুফল আরও বিস্তৃত করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসা, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

রি-ওয়েট প্রকল্পের কনসোর্টিয়াম কো-অর্ডিনেটর শুভাশিস দাস শুভ জানান, প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ড্রাই ও ওয়েট সিজনে লেকের পানির গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়েছে। চলতি বছরও পানি ও মাটির পাশাপাশি ফ্লোটিং গার্ডেন, লেকপাড়ে উৎপাদিত সবজি এবং মাছের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এসব নমুনায় হেভি মেটালসহ বিভিন্ন উপাদানের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হচ্ছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার আশা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে IIED-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার বেথ ডাউনি বিভিন্ন অংশীজনকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে কাজ করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জলাভূমি সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

UKFCDO-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি এএসএম মারজান নূর বলেন, জলবায়ু কার্যক্রমকে কার্যকর ও টেকসই করতে হলে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটিকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে DNCC প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও প্রয়োজন অনুযায়ী সম্প্রসারণ করা গেলে রি-ওয়েট প্রকল্প সারা দেশের শহুরে জলাভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কার্যকর মডেল হতে পারে।

তিনি বলেন, লেকের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। শুধু লেক পরিষ্কার বা সৌন্দর্যবর্ধন করলেই হবে না; পানির গুণগত মান, দূষণের উৎস, জীববৈচিত্র্য, জলজ পরিবেশ এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকির মতো বিষয়গুলো বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

মো. শফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে লেকের জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এতে লেকের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোগটি আরও টেকসই হবে। এ ধরনের পরিবেশ ও জলাভূমি সংরক্ষণমূলক উদ্যোগে DNCC-এর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাসও দেন তিনি।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে রাজধানীর জলাভূমিগুলো ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে। ফলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, জলাভূমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

তাদের মতে, গুলশান-বনানী লেকের মতো নগর জলাভূমিকে পরিবেশগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে গবেষণা, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা করা গেলে এটি একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক, পরিবেশবিদ ও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ