শিরোনাম
ফটিকছড়ির প্রতিটি গ্রাম-গলিতে সন্ত্রাস-মাদকের বিরুদ্ধে প্রচারণা: এমপি সরোয়ার আলমগীর ১৫০ গানের মাইলফলকে ইবনাত সালমা, নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে ‘নূপুর বাজে’ চুনতীর ৫৬তম আন্তর্জাতিক মাহফিলে সীরাতুন্নবী: কুরআনের নির্দেশনা মেনে জীবন গড়ার আহ্বান দীর্ঘ ৩৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলার স্বীকৃতি, জেলা পরিষদে পাইচিং মং মারমা পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন আবু হেনা চৌধুরী বহুমুখী দায়িত্বে সাফল্য, মানবিকতায় প্রশংসিত—সাতকানিয়া ছাড়ছেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান দক্ষিণ চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে নাগরিক পার্টির মতবিনিময় রিয়াযুল উলুম বালক-বালিকা মাদ্রাসায় কুরআন মাজিদের সবক প্রদান ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চান্দগাঁও-মুরাদপুরে জোবাইরুল হাসান আরিফের শরবত-তাবারুক বিতরণ জেদ্দা থেকে চট্টগ্রামগামী বিমানের ফ্লাইট মাস্কাটে জরুরি অবতরণ, বাংলাদেশি যাত্রীর মৃত্যু
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন

দীর্ঘ ৩৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলার স্বীকৃতি, জেলা পরিষদে পাইচিং মং মারমা

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: / ৪৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গঠিত হয়েছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন পরিষদ। নবগঠিত ১৪ সদস্যের পরিষদে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া পশ্চিম সোনাইছড়ির সন্তান ও বিএনপি নেতা পাইচিং মং মারমা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও প্রতিকূলতার পর তাঁর এই দায়িত্বপ্রাপ্তিকে রাজনৈতিক অঙ্গন ও স্থানীয় জনগণের অনেকে মূল্যায়নের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

পাইচিং মং মারমা ১৯৮৮ সাল থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কাউখালী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাউখালী উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় থেকে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া প্রথমদিকের নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন পাইচিং মং মারমা। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে পাইচিং মং মারমাকে একাধিক মামলার আসামি হতে হয়েছে। রাজনৈতিক মামলায় তাঁকে দীর্ঘ সময় কারাবরণও করতে হয়েছে বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে। মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের মতো নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়াননি।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও নেমে এসেছিল একের পর এক শোক। কারাবন্দি থাকার সময় তাঁর একমাত্র ছেলে ও আপন ছোট ভাইকে হারাতে হয়। পরিবারের দুই প্রিয়জনকে হারানোর এই মর্মান্তিক ঘটনা তাঁর জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করলেও রাজনৈতিক আদর্শ ও দলের প্রতি তাঁর অবস্থান থেকে তিনি বিচ্যুত হননি বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা প্রতিকূলতা ও ত্যাগের পর রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার খবরে কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, মামলা-হয়রানি ও প্রতিকূলতার পর তাঁর এই দায়িত্বপ্রাপ্তি যথাযথ মূল্যায়নেরই প্রতিফলন।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, পাহাড়ি-বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে পাইচিং মং মারমার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে জেলা পরিষদের নতুন দায়িত্বে তিনি সাধারণ মানুষের সমস্যা, প্রত্যন্ত এলাকার উন্নয়ন এবং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

এদিকে পাইচিং মং মারমাকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে পাইচিং মং মারমা বলেন, “সৃষ্টিকর্তার কাছে আশীর্বাদ চাই এবং আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা যেন সঠিকভাবে পালন করতে পারি—সেই প্রার্থনা করি। সবসময় জনগণের পাশে থাকতে চাই। জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে পাওয়া দায়িত্বটি আমি রাঙ্গামাটির সাধারণ মানুষের প্রতি উৎসর্গ করলাম।”

তিনি আরও বলেন, নতুন দায়িত্বকে তিনি কোনো ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছেন না; বরং জনগণের সেবা করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। পরিষদের মাধ্যমে রাঙ্গামাটির সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বে পাইচিং মং মারমা রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। বিশেষ করে পাহাড়ি-বাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর পিছিয়ে থাকা মানুষের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে তিনি ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা জেলা পরিষদের নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশা, দল-মত ও সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করবেন এবং নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ