দেশের প্রধান সামুদ্রিক বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের নেভিগেশনাল চ্যানেল ও বহিঃনোঙর এলাকায় জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। জাহাজ চলাচলের নির্ধারিত পথে মাছ ধরার জাল স্থাপনের কারণে সম্ভাব্য নেভিগেশনাল ঝুঁকি কমানো এবং স্থানীয় জেলে ও নৌযানচালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের মূল নেভিগেশনাল চ্যানেল ও বহিঃনোঙর এলাকায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাণ্ডারী-১২, দুটি স্থানীয় বোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ ও একটি বোট অংশ নেয়।
কার্যক্রম চলাকালে নেভিগেশনাল চ্যানেল ও জাহাজ চলাচলের পথে মাছ ধরার জাল স্থাপনের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে স্থানীয় মাঝি-মাল্লা ও জেলেদের সতর্ক করা হয়। বিশেষ করে বেহুন্দি জালসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথে কোনো ধরনের জাল না পাততে তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নেভিগেশনাল চ্যানেলে মাছ ধরার জাল বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে বড় আকারের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ও নেভিগেশনাল জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যও বাধাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই জাহাজ চলাচলের নির্ধারিত পথ নিরাপদ রাখা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।
সচেতনতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে স্থানীয় জেলে ও নৌযানচালকদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। এতে নেভিগেশনাল চ্যানেল, জাহাজ চলাচলের নির্ধারিত পথ এবং বহিঃনোঙর এলাকায় নৌযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কে বিভিন্ন নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে দায়িত্বশীলভাবে নৌযান পরিচালনার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরের নিরাপদ নেভিগেশন নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নেভিগেশনাল চ্যানেলকে জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এ বন্দরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা দেশের অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নেভিগেশনাল চ্যানেল ও বহিঃনোঙর এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
ভবিষ্যতেও স্থানীয় জেলে, মাঝি-মাল্লা ও নৌযানচালকদের সম্পৃক্ত করে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের পথে কোনো ধরনের অবৈধ জাল বা প্রতিবন্ধকতা স্থাপন না করতে এবং নিরাপদ নেভিগেশন নিশ্চিতকরণে বন্দর কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার জন্য সকল জেলে, মাঝি-মাল্লা ও নৌযান মালিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।