চট্টগ্রাম ওয়াসার বকেয়া রাজস্ব আদায়ে গঠিত বিশেষ টিমগুলোর কার্যক্রমে সফলতা অর্জনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বকেয়া রাজস্ব আদায়ে অবদান রাখায় সংশ্লিষ্টদের প্রশংসাসূচক সনদ এবং সর্বোচ্চ বকেয়া আদায়কারী তিনজন মিটার পরিদর্শককে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম ওয়াসার বোর্ড রুমে আয়োজিত সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, বকেয়া রাজস্ব আদায়ে আরও কর্মনিষ্ঠ ও আন্তরিক হতে হবে। রাজস্ব আদায়ে বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বকেয়া আদায়ে গঠিত মনিটরিং টিমগুলো এলাকাভিত্তিক কাজ করছে এবং নির্ধারিত এলাকার বকেয়াধারী গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিল পরিশোধে উৎসাহিত করছে।
তিনি বলেন, মনিটরিং টিমগুলো মূলত মোটিভেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর আগে ৫০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকা গ্রাহকদের নিয়ে কাজ করা হয়েছে। এবার ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকা গ্রাহকদের নিয়ে সাত কর্মদিবসের বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কার্যক্রম শেষে এর ফলাফল মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
ওয়াসার এমডি বলেন, বকেয়া আদায়ে জোরালো তৎপরতার সুফল ইতোমধ্যে রাজস্ব আদায়েও দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ওয়াসার মাসিক রাজস্ব আদায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও জুলাই মাসে ২৬ কোটি ৮০ লাখ এবং আগস্টে ২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই মাসের ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা ওয়াসার ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড।
তিনি বলেন, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এ সফলতা এসেছে, তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রশংসাসূচক সনদ দেওয়া হচ্ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও উৎসাহিত হয়ে কর্মনিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ওয়াসার বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাছে ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং সাধারণ গ্রাহকদের কাছে ১৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
বকেয়া রাজস্ব আদায়ে ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকা গ্রাহকদের সংযোগ সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আটটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম গত দুই মাস ধরে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। টিমগুলোর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বকেয়া আদায়ের পাশাপাশি গ্রাহকদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ ও ওয়াসার গ্রাহক ডাটাবেজ সমৃদ্ধ করা।
প্রতিটি গ্রাহকের হিসাব নম্বর, বকেয়ার পরিমাণ, নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না, কত টাকা আদায় হয়েছে, আদায়ের তারিখ, বকেয়া পরিশোধ না করার কারণ এবং গ্রাহকের সর্বশেষ মোবাইল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপের তথ্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওয়াসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে হালনাগাদ না থাকা গ্রাহক তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি কোন এলাকায় কতজন বড় অঙ্কের বকেয়াধারী রয়েছেন, তাদের বর্তমান অবস্থান, সংযোগ সচল আছে কি না এবং নিয়মিত বিল পরিশোধ করছেন কি না—এসব তথ্যের একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরির কাজও চলছে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) শারমিন আক্তার বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশনায় ওয়াসার বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়া রাজস্ব আদায়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। মনিটরিং টিমগুলো দিন-রাত মাঠপর্যায়ে কাজ করায় রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। আজকের সম্মাননা সবার কাজের স্পৃহা আরও বাড়াবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) শারমিন আলম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রকৌশল) বিষ্ণু কুমার সরকার, সচিব শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী, বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক সাজিয়া পারভীন, প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল আমিন, মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।