চট্টগ্রামের পটিয়ায় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৩)-এর একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের কমলমুন্সির হাট-মল্লাপাড়া সড়কের রাস্তার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-ঢাকা ও কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা কক্সবাজার এক্সপ্রেস পটিয়া এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনটির একটি বগি হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। তবে দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
লাইনচ্যুত হওয়ার পর ট্রেনটি ঘটনাস্থলে আটকা পড়ে। খবর পেয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করে রেলপথ সচল করতে রিলিফ ট্রেন পাঠানো হয়। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পাহাড়তলী, চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁঞা বলেন, “লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করে রেললাইন সচল করার জন্য রিলিফ ট্রেন গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।”
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, একটি আন্তঃনগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ওই পথে চলাচলকারী অন্যান্য ট্রেনের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকাজ দ্রুত শেষ করে রেলপথ স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে। অনেকে লাইনচ্যুত ট্রেনের বগি দেখতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দুর্ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তবে ঠিক কী কারণে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগিটি লাইনচ্যুত হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রেললাইন বা ট্রেনের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, রেলপথের অবকাঠামোগত সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তা কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেলওয়ে সূত্র বলছে, লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের পাশাপাশি রেললাইনের সংশ্লিষ্ট অংশ পরীক্ষা করা হবে। নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর রেললাইন পরীক্ষামূলকভাবে পরিদর্শন করে ট্রেন চলাচলের উপযোগী ঘোষণা করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রেল যোগাযোগের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব না পড়ে সে জন্য উদ্ধার তৎপরতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে লাইনচ্যুত বগি সরিয়ে রেলপথ সচল করার পর পর্যায়ক্রমে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। এর একদিন পর পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে পটিয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর না থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন ট্রেনের যাত্রীরা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কারিগরি তদন্ত শেষ হলে লাইনচ্যুত হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা আরও স্পষ্ট হবে।