সকল ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। একই সঙ্গে জনস্বার্থ, শ্রমিকদের জীবনযাত্রা এবং পরিবহন খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল অথবা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম পাটওয়ারী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম একযোগে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পরিবহন শ্রমিক, মালিক ও সাধারণ যাত্রীদের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ কঠিন সময় পার করছেন। এর মধ্যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে পরিবহন খাত সরাসরি সম্পৃক্ত। সড়ক পরিবহনে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের ব্যবহার থাকায় এসব জ্বালানির দাম বাড়লে যানবাহন পরিচালনার ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাবে। এর প্রভাব পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর চাপ তৈরি হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা বলেন, শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে বিভিন্ন পণ্য বাজারজাতকরণ ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা আরও বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা প্রতিদিন দেশের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশ, অনিয়মিত আয়, কর্মনিরাপত্তার অভাবসহ নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে তাদের কাজ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এমন বাস্তবতায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন খাতের শ্রমিকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে এর সম্ভাব্য প্রভাব পরিবহন খাত, শ্রমিক, মালিক এবং সাধারণ মানুষের ওপর কীভাবে পড়বে, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবহন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি রোধ এবং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা চাপানো ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার অথবা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়া চাপিয়ে না দেওয়া, জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পরিবহন খাতের বিদ্যমান সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
তারা বলেন, দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে পরিবহন খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি নীতিতে দায়িত্বশীল, ন্যায়সংগত ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে যাতে পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ নতুন করে অর্থনৈতিক সংকটে না পড়েন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ জনস্বার্থ ও শ্রমিকদের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান।