শিরোনাম
১৮৫ দেশ ভ্রমণে নাজমুন নাহার, লাল-সবুজ পতাকা হাতে বাংলাদেশের অনন্য গৌরব এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন অভিনেত্রী নওরিন পটিয়ায় ক্বলবুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অফিস উদ্বোধন বেপজা নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা: সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার খসড়া মহাপরিকল্পনা নিয়ে চউক ও পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের মতবিনিময় সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ৪১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি গঠন চট্টগ্রামে নৌবাহিনী-ফায়ার সার্ভিসের যৌথ মহড়া, রাসায়নিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাড়ছে প্রস্তুতি চন্দনাইশে কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালয়ে পুরস্কার বিতরণ ও শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা চবিতে ২৫ শিক্ষার্থীর মাঝে ‘এক টাকায় শিক্ষা’র স্কুলব্যাগ বিতরণ সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর ভয়াবহ ভাঙন, দ্রুত প্রতিরক্ষা চান চরতীবাসী
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৯ অপরাহ্ন

সাতকানিয়ায় জনবান্ধব প্রশাসনের দৃষ্টান্ত খোন্দকার মাহমুদুল হাসান – জাহাঙ্গীর আলম

জাহাঙ্গীর আলম / ১১২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর থেকে প্রশাসনিক দক্ষতা, সাহসী সিদ্ধান্ত, মানবিক উদ্যোগ ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি শুধু দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ, অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান, দুর্যোগকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায়-দুস্থ মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন।

সাতকানিয়ার মতো বৃহৎ ও বৈচিত্র্যময় একটি উপজেলায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন সহজ নয়। একদিকে রয়েছে পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত জনপদ, অন্যদিকে নদী-খাল, কৃষিনির্ভর এলাকা ও ঘনবসতি। এর সঙ্গে রয়েছে বন্যা, জলাবদ্ধতা, পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ মাটি কাটা, খাদ্যে ভেজাল, আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বাস্থ্যসহ নানা সমস্যা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।

দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ কর্মকাণ্ড ও ভেজাল রোধে প্রায় শতাধিক অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ভেজাল ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। প্রশাসনের এই ধারাবাহিক তৎপরতা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপদ জীবনযাপনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

আধুনিক ও উন্নত সাতকানিয়া গড়ার লক্ষ্যেও তিনি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়েছেন। উপজেলার কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, কোথায় অনিয়ম হচ্ছে কিংবা কোন বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সমস্যা সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করার এই উদ্যোগ জনবান্ধব প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাতকানিয়ায় রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে চাকরি দেওয়া কিংবা আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন উপজেলা প্রশাসন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগণের স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় থেকেছেন খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। হতদরিদ্র ও সহায়-সম্বলহীন মানুষের মাঝে চাল, ডাল ও অর্থ সহায়তা প্রদান, শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এসব উদ্যোগে একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের পাশাপাশি অসহায় মানুষের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতারও প্রকাশ ঘটেছে।

তার দায়িত্ব পালনের সময় সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি ছিল পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ। মাটি কাটার সুবিধার্থে কিছু প্রভাবশালী চক্রের তৈরি করা একটি কৃত্রিম বাঁধের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সেই বাঁধ কেটে দেওয়ার সাহসী পদক্ষেপ নেন তিনি। প্রভাবশালী মহলের তৈরি করা বাধা অপসারণের এ সিদ্ধান্তের ফলে এলাকায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয় এবং বন্যার পানির চাপ দ্রুত কমে আসে বলে স্থানীয়দের অভিমত। মাঠ প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি উদাহরণ হিসেবেও এ উদ্যোগটি আলোচিত হয়েছে।

সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে সাধারণ মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য উপজেলা পরিষদে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করেন তিনি। বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি, আটকে পড়া মানুষের তথ্য, জরুরি উদ্ধার ও খাদ্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তা জানতে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একই সময়ে উপজেলার বিপন্ন মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রায় ৮৯টি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র সচল করা হয়।

বন্যার পানিতে পানিবন্দী হাজার হাজার পরিবারের জন্য সরকারিভাবে ১৫ হাজার প্যাকেট চাল এবং ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার সরাসরি বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়। ত্রাণ কার্যক্রম যাতে শুধু উপজেলা সদরে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে তদারকির মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

বন্যার পানিতে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার এবং খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন ইউএনও। দুর্যোগের সময় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে গতিশীল করার চেষ্টা করা হয়।

বন্যার পানি কমে যাওয়ার পরও থেমে থাকেননি তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোর প্রকৃত চিত্র জানতে মাঠে গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেন। কোথায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন—এসব বিষয় চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বন্যাদুর্গত দুস্থ ও অসহায় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে সর্বাত্মক সহযোগিতার ঘোষণা দেন তিনি।

সব মিলিয়ে সাতকানিয়ায় খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক দৃঢ়তা ও মানবিকতার একটি সমন্বিত চিত্র পাওয়া যায়। একদিকে ভেজাল ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শত শত অভিযান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের চাকরি ও আশ্রয় দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং প্রভাবশালী চক্রের কৃত্রিম বাঁধ অপসারণের মতো পদক্ষেপ; অন্যদিকে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য, অর্থ, শীতবস্ত্র ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ এবং বন্যার সময় আশ্রয়, ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সক্রিয় ভূমিকা—দুই দিকই তার কর্মপরিধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব শুধু সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সমস্যা বোঝা, প্রয়োজনের সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, আইনশৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষা করা এবং দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকে সাতকানিয়ায় খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের কর্মকাণ্ড স্থানীয় প্রশাসনে একটি সক্রিয়, সাহসী ও জনমুখী ভূমিকার চিত্র তুলে ধরেছে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সাতকানিয়াকে আধুনিক, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে। কারণ একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু সরকারি দায়িত্ব পালন নয়—দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আস্থা অর্জন করা। সাতকানিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে মানবিক কর্মকাণ্ড, দুর্যোগ মোকাবিলা, জনস্বার্থে সাহসী সিদ্ধান্ত এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সেই আস্থার জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট
jahangirfa@yahoo.com
01749-336285


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ