বর্তমান সময়ের তরুণ মেধাবী অভিনেত্রী সোরমিলা ইসলাম নওরিন। নাচ ও অভিনয়ে সমানতালে এগিয়ে চলার পাশাপাশি এবার শিক্ষাজীবনেও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন এই তরুণ অভিনেত্রী। অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও এমন ফলাফলে উচ্ছ্বসিত নওরিন ও তার পরিবার। বর্তমানে কলেজে ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত নওরিন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে নাচের মাধ্যমে তার সাংস্কৃতিক যাত্রা শুরু হয়। নৃত্যগুরু আজিজ রেজার কাছে নাচের তালিম নিয়েছেন তিনি। নৃত্যচর্চায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন নওরিন।
অভিনয়ে নওরিনের পথচলা শুরু মাত্র ছয় বছর বয়সে। এনটিভির একটি নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার। এরপর ধীরে ধীরে নাটক, বিজ্ঞাপন ও ওয়েব সিরিজে কাজ করে নিজের জায়গা তৈরি করছেন এই তরুণী।
সম্প্রতি মুশফিক আর ফারহান ও কেয়া পায়েলের সঙ্গে ‘পরান পাখি’ নাটকে অভিনয় করেছেন নওরিন। নাটকটি দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। পাশাপাশি গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন তিনি। বিভিন্ন ওয়েব সিরিজের শুটিংও শেষ করেছেন নওরিন, যেগুলো শিগগিরই প্রচারে আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে নওরিন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত আছি। ভবিষ্যতে শুধু একজন নায়িকা নয়, একজন সফল অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই। অভিনয়ের পাশাপাশি পড়াশোনায়ও ভালো করতে চাই। প্রশাসনিক কাজের প্রতিও আমার আগ্রহ রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে নিজেকে প্রশাসনিক কাজেও দেখতে চাই।”
নিজের সাফল্যের পেছনে মায়ের অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন নওরিন। তিনি বলেন, “আমার মা সবসময় আমার পাশে ছিলেন বলেই আজ আমি এতদূর আসতে পেরেছি। মায়ের সাপোর্ট ছাড়া নাচ ও অভিনয়ে আসা এবং এতদূর এগিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।”
নওরিনের গ্রামের বাড়ি ফেনীতে হলেও তার বেড়ে ওঠা ঢাকায়। মাইলস্টোন স্কুল ও রাজাবাগ পুলিশ লাইন্স স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে এবার কলেজজীবনে পা রাখার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
পড়াশোনায় সাফল্যের পাশাপাশি নাচ ও অভিনয়ে নিজের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে ভবিষ্যতে একজন ভালো অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই এখন নওরিনের লক্ষ্য। মেধা, পরিশ্রম ও প্রতিভার সমন্বয়ে নওরিন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাবেন—এমন প্রত্যাশা তার পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।