শিরোনাম
আনোয়ারার বেলচুড়া আদর্শ গ্রাম সড়ক: ৪০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই ১৮৫ দেশ ভ্রমণে নাজমুন নাহার, লাল-সবুজ পতাকা হাতে বাংলাদেশের অনন্য গৌরব এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন অভিনেত্রী নওরিন পটিয়ায় ক্বলবুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অফিস উদ্বোধন বেপজা নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা: সংঘবদ্ধ চোরচক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার খসড়া মহাপরিকল্পনা নিয়ে চউক ও পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরামের মতবিনিময় সাতকানিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার ৪১ সদস্যের কার্যকরী কমিটি গঠন চট্টগ্রামে নৌবাহিনী-ফায়ার সার্ভিসের যৌথ মহড়া, রাসায়নিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাড়ছে প্রস্তুতি চন্দনাইশে কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালয়ে পুরস্কার বিতরণ ও শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা চবিতে ২৫ শিক্ষার্থীর মাঝে ‘এক টাকায় শিক্ষা’র স্কুলব্যাগ বিতরণ
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

আনোয়ারার বেলচুড়া আদর্শ গ্রাম সড়ক: ৪০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : / ৩১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

অভিভাবকহীন সড়কে দুর্ভোগ চরমে, বর্ষায় কাদা-গর্তে চলাচল অনুপযোগী; বরাদ্দের ইটের সলিংয়ের কাজও থেমে আছে

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের বেলচুড়া আদর্শ গ্রাম সড়কটি যেন দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবকহীন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪০ বছরেও সড়কটির স্থায়ী কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষা এলেই সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত, কাদা ও জলাবদ্ধতা। এতে যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি পায়ে হেঁটেও চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীরা সড়কটি সংস্কার ও পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আর দেখা যায় না। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছেন বেলচুড়া আদর্শ গ্রামের মানুষ।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সম্প্রতি সড়কটির প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট অংশের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩৫০ ফুট ইটের সলিং করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজ শুরু হলেও স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট ইট বসানোর পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর কাজ শুরু না হওয়ায় বরাদ্দের কাজের অগ্রগতি, নির্মাণসামগ্রীর মান ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন থেকে বেলচুড়া আদর্শ গ্রামের দিকে যাওয়া সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত রয়েছে। বৃষ্টির পানিতে এসব গর্ত কাদায় পরিণত হয়েছে। সড়কের শুরু ও শেষ অংশের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। কোথাও কোথাও ইট ও মাটি সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর খানাখন্দ। এসব অংশ দিয়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

বেলচুড়া আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলার মধ্যে বসবাস করছি। কোনো বয়স্ক ব্যক্তি অসুস্থ হলে কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে নিতে হলে কাঁধে করে পাকা সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। বর্ষা এলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।’

স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে ইট বিছিয়ে সড়কের কিছু অংশ সংস্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পুরো সড়কটি পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করে পাকা ও টেকসইভাবে নির্মাণ করতে হবে।

এদিকে সড়কের ইটের সলিংয়ের কাজ পেয়েছেন ৪ নম্বর বটতলী ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রওশন আক্তার মুন্নী। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, একজন জনপ্রতিনিধি একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়নকাজের ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রওশন আক্তার মুন্নীর স্বামী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে চাকরি করেন এবং তাঁর মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কাজেও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রওশন আক্তার মুন্নী নিজেই দাবি করেছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় তাঁর নয়টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে এবং তিনি সেসব কাজ সরেজমিনে দেখাশোনা করেন।

সড়কের কাজের বিষয়ে রওশন আক্তার মুন্নী বলেন, ‘উপজেলা থেকে সাড়ে ৩৫০ ফুট সড়ক ইটের সলিং করার বরাদ্দের কাজটি আমি পেয়েছি। বৃষ্টির কারণে বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। সাড়ে ৩৫০ ফুটের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০ ফুট কাজ হয়েছে।’

কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাজে এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়ম হয়েছে—এমন কথা কেউ বলতে পারবে না। কাজ শেষ করে এলজিইডিকে বুঝিয়ে দেব। কাজের মান খারাপ হলে কর্তৃপক্ষ বিল কম দেবে।’

সাংবাদিকদের কাছে কাজের বরাদ্দ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও প্রকল্পের বিস্তারিত জানতে চাইলে রওশন আক্তার মুন্নী বলেন, ‘সড়কের কাজ বন্ধ। কাজের ভালো-মন্দ দেখবে উপজেলা প্রকৌশলী। এখানে সাংবাদিকদের কাজ কী? আমার কাজ নিয়ে সাংবাদিকদের এত মাথাব্যথা কেন? আমার কাজ আমি এলজিইডিকে বুঝিয়ে দেব। কাজের মান খারাপ হলে কর্তৃপক্ষ টাকা কম দেবে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য জাগীর আহমদ বলেন, ‘৪০ বছর ধরে সড়কটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। একজন জনপ্রতিনিধি যদি ৪০ বছর ধরে একটু একটু করে কাজ করতেন, তাহলে সড়কের এমন অবস্থা হওয়ার কথা নয়। সড়কটি পাকা করার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গত মে মাসে প্রায় ২০০ ফুট ইট বসিয়ে সংস্কারের কাজ করা হয়েছে। আরও প্রায় ১০০ ফুটের কাজ দুই-এক দিনের মধ্যে শেষ হবে। আপাতত কিছু ভাঙা ইট দিয়ে সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।’

চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল মনসুর বলেন, ‘রাস্তাটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে রয়েছে। সড়কটি পাকা করার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। এটি পাস হলে দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে।’

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, একদিকে বৃষ্টির কারণে সড়কের কাজ বন্ধ থাকার কথা বলা হলেও একই ঠিকাদারের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় নয়টি প্রকল্প চলমান থাকার দাবি রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ, কাজের পরিমাণ, বাস্তবায়নের অগ্রগতি, নির্মাণসামগ্রীর মান এবং বিল প্রদানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘সড়কের কাজ আগামী সপ্তাহে শুরু করা হবে।’

অন্যদিকে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তাঁর সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য চাওয়া হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘ ৪০ বছরের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে বেলচুড়া আদর্শ গ্রাম সড়কটি দ্রুত টেকসইভাবে উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি বরাদ্দের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, কাজের মান ও প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তদারকি ও তদন্ত করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ