শিরোনাম
বাঁশখালীতে মাদক সম্রাট আটক,১বছরের কারাদণ্ড চট্টগ্রামে রাজনৈতিক আলোচনা সভা, ইতিহাস ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে বক্তব্য ও খাল পরিদর্শন চট্টগ্রামে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ও পূর্ণাঙ্গ কিডনি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চলছে: ওয়াহিদ মালেক রাঙামাটিতে আধুনিক ‘কুমন’ শিক্ষা পদ্ধতির যাত্রা শুরু: বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে নতুন দিগন্ত বোয়ালখালীর সাংবাদিকদের ঐক্যের নতুন প্ল্যাটফর্ম “সাংবাদিক ফোরাম-চট্টগ্রাম” চলতি বছরেই শেষ হবে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু জনগণই আমাদের রাজনৈতিক শক্তির উৎস : চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুমিল্লার বরুড়ায় জনসমুদ্রে রূপ নেয় তারেক রহমানের পথসভা “কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও ভুয়া স্বাক্ষর কান্ডে জড়িত” বাঁশখালীর সেই বিতর্কিত চিকিৎসককে কর্ণফুলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলী মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে বাবার কান্না, বাঁশখালীতে যুবকের ৪ মাসের কারাদণ্ড
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

চলতি বছরেই শেষ হবে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

জাহাঙ্গীর আলম / ৫২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে নগরে আর স্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের উন্নতি আসবে।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল তিনটার দিকে নগরের শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর প্রকল্পগুলোর অবশিষ্ট কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হবে। তিনি জানান, “কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না। পানি নিষ্কাশনে আর সমস্যা হবে না। তবে অতিবৃষ্টির সময় সাময়িক জলজট সৃষ্টি হতে পারে।”

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, মীর শাহে আলম, মো. রাজিব আহসান, ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-এর দুটি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-এর একটি এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত আট বছরে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিডিএ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অতীতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় বর্তমানে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের বিল পরিশোধে সরকারি তহবিলের ওপর চাপ রয়েছে। পাশাপাশি বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া দায়ও পরিশোধ করতে হচ্ছে। তারপরও চট্টগ্রামের প্রকল্পগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমানোই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।”

প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এসব প্রকল্পে যদি কোনো লুটপাট হয়ে থাকে, তবে তার তদন্ত করা হবে। কারা জড়িত, তাদেরও খুঁজে বের করা হবে।”

বর্ষা মৌসুমের কারণে কিছু কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্ষা শেষে পুনরায় পুরোদমে কাজ শুরু হবে। তিনি জানান, নগরের ছোট-বড় প্রায় ১৩০টি খালকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে সুফল পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “কতটুকু বৃষ্টিতে কী পরিমাণ পানি প্রবাহিত হবে এবং কীভাবে তা সাগরে নিষ্কাশিত হবে—সেই পূর্ণ হিসাব-নিকাশ করেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।” পাশাপাশি জোয়ার-ভাটা, স্লুইসগেট পরিচালনা এবং আউটলেট ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অতীতে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সমন্বয়ের অভাব ছিল উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আগে সমন্বয় ছিল না। এখন সবাই সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।” তিনি জানান, সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য চট্টগ্রাম সিটি মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এ সময় নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, খালকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও বুকসমান, কোথাও হাঁটুপানিতে অচল হয়ে পড়ে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে প্রবর্তক মোড় ও আশপাশের এলাকা। হাসপাতাল, রোগনির্ণয় কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানের কারণে এলাকাটি সবসময় ব্যস্ত থাকায় সেখানে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

পরিদর্শন শেষে অর্থমন্ত্রী, তিন প্রতিমন্ত্রী ও সিটি মেয়র প্রবর্তক মোড়ের হিজড়া খালসহ নগরের বিভিন্ন খালে চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামসুল আলম এবং প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিনুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ