কিডনি রোগীদের চিকিৎসা সেবা আরও সহজলভ্য ও টেকসই করতে চট্টগ্রামে একটি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং পূর্ণাঙ্গ কিডনি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন কিডনি রোগী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও দৈনিক আজাদীর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর মোমিন রোডস্থ দৈনিক আজাদীর কনফারেন্স হলে কিডনি রোগী কল্যাণ সংস্থার ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, স্মরণিকা “স্পন্দন” এর মোড়ক উন্মোচন, আজীবন সদস্যদের সনদপত্র বিতরণ এবং কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

মানবিক স্বাস্থ্যসেবায় সংস্থার ভূমিকা
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কিডনি রোগ বর্তমানে দেশের অন্যতম ব্যয়বহুল ও জটিল স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ওয়াহিদ মালেক বলেন, কিডনি রোগীদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা ব্যয়ের ভার বহন করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। এই বাস্তবতায় কিডনি রোগী কল্যাণ সংস্থা সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক সহযোগিতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে কিডনি রোগীদের জন্য টেকসই চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যেই চট্টগ্রামে একটি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং পূর্ণাঙ্গ কিডনি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নগরীর সুবিধাজনক স্থানে ভূমি সংগ্রহের কাজও এগিয়ে চলছে।”
আলোচনা সভা ও উদ্বোধনী পর্ব
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি ও Bangladesh Human Rights Foundation-এর মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান। তিনি বলেন, কিডনি প্রতিস্থাপনে নিকটাত্মীয়ের সীমিত বাধ্যবাধকতা বর্তমানে দাতা সংকট তৈরি করছে। মানবিক ও ইমোশনাল ডোনারদের মাধ্যমে কিডনি দানের সুযোগ সৃষ্টি করতে আইন সংশোধন জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনায় নিকটাত্মীয়ের বাইরেও দান করার সুযোগের কথা বলা হলেও আইনগত জটিলতার কারণে বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। দ্রুত আইন সংশোধন করা হলে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম আরও সহজ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য
সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাব্বির আহমদ বলেন, প্রয়াত সাংবাদিক জাহেদুল হকের স্বপ্ন ছিল—দেশের কোনো কিডনি রোগীকেই যেন চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না হয়। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে কিডনি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, ডা. মোহাম্মদ সরওয়ার, ডা. দুলাল দাশ, দৈনিক নয়া বাংলার সম্পাদক জিয়া উদ্দিন হিরু, সংস্থার সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আবু মুসা, স্বাস্থ্যসেবা ও রোগী কল্যাণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ওবায়দুল হক মনি, নির্বাহী সদস্য আহসান হাবীব বাবুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
সংস্থার কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বক্তারা জানান, কিডনি রোগী কল্যাণ সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের ডায়ালাইসিস সহায়তা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ কিডনি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা সেবা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সংস্থার আজীবন সদস্যদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয় এবং কিডনি রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়া স্মরণিকা “স্পন্দন” এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থার অর্থ সম্পাদক সাংবাদিক মোহাম্মদ হোসেন। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী এবং সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।