শিরোনাম
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ সাতকানিয়ায় বারোমাসি তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য, বাড়ছে মার্সালো-আস্তা-ব্ল্যাকবেবির চাহিদা সাতকানিয়ায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মহড়া হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে মানবজীবন সুন্দর করা সম্ভব: রনজিত কান্তি দেব দুর্গাপূজায় দর্শনার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে নিজ অর্থায়নে সড়ক মেরামত করছেন শাহাদাত হোসাইন ৩০০ বছরের পুরোনো পূজামণ্ডপ প্রথমবার একসঙ্গে পরিদর্শন করলেন চট্টগ্রামের ডিসি-এসপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে: ডিসি জাহিদুল ইসলাম  দুর্গাপূজাকে ঘিরে গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে-এসপি মাসুদ রাঙ্গামাটিতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে জামায়াতের মতবিনিময় সভা, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতিতে গুরুত্ব চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের দুই নেতার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৪ অপরাহ্ন

পার্বত্য মন্ত্রীর পদত্যাগ ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা: অপপ্রচার বন্ধে প্রকৃত কারণ জানাতে প্রেস ব্রিফিংয়ের আহ্বান

বার্তা টুডে ডেস্ক / ২০৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন লেখক। সেখানে তিনি দাবি করেন, মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর পাহাড়ি কিছু আঞ্চলিক সংগঠন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুললেও এখন পর্যন্ত সেসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়, কিছু মহল দাবি করছে যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল নাকি মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে প্রভাবিত করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতেন। এমনকি রাঙ্গামাটি সিটি কর্পোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল বলে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো তথ্য-উপাত্ত বা প্রমাণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলে মন্তব্য করা হয়।

লেখক বলেন, দীপেন দেওয়ান দীর্ঘদিন বিচারক হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিএনপির একজন প্রবীণ ও পরীক্ষিত নেতা। নিজের যোগ্যতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ফলে তার মতো একজন ব্যক্তিত্বকে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করতেন—এমন অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং তার পদত্যাগপত্রেও অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তাই পদত্যাগের পেছনে অন্য কোনো কারণ খুঁজে বের করার আগে সরকারি ব্যাখ্যাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চান বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, সেটিকেও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখকের মতে, তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা, দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং একাধিক রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ফলে পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় নেতৃত্বের প্রশ্নে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে জড়ানোর সুযোগ বা প্রয়োজন তার নেই।

স্ট্যাটাসে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নিজেই ব্যারিস্টার মীর হেলালকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই সরকার কাজে লাগাতে চেয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়।

লেখক দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ব্যারিস্টার মীর হেলালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অপপ্রচার চালানো হলেও তিনি প্রকাশ্যে কোনো বিতর্কিত বা পক্ষপাতমূলক বক্তব্য দেননি। তার কোনো সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যের অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে তিনি বাঙালি ও পাহাড়ি উভয় পক্ষের অতিউৎসাহী সমর্থকদেরও সমালোচনা করেন। তার মতে, একপক্ষ যেমন ব্যারিস্টার মীর হেলালকে নিজেদের একক প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, অন্যপক্ষ তেমনি দীপেন দেওয়ানকে নির্দিষ্ট আঞ্চলিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানোর চেষ্টা করছে। এসব বক্তব্যের পক্ষে যথাযথ প্রমাণ না থাকায় সেগুলো পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, দীপেন দেওয়ান ও ব্যারিস্টার মীর হেলাল—উভয়েই বিএনপির পরীক্ষিত ও বিশ্বস্ত নেতা। তারা কোনো আঞ্চলিক, উপজাতীয় বা বাঙালি সংগঠনের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করেন না; বরং পার্বত্য অঞ্চলের সকল জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে লেখক বলেন, এ অঞ্চলে মূলধারার রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক দল, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, বামপন্থী সংগঠন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও অন্যান্য প্রভাবশালী পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। এমন জটিল বাস্তবতায় অপ্রমাণিত অভিযোগ ও গুজব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি মনে করেন, মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের উচিত দ্রুত একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার পদত্যাগের প্রকৃত কারণ জনগণের সামনে তুলে ধরা। এতে করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে এবং বিভ্রান্তি দূর হবে।

সবশেষে লেখক আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একজন সাবেক বিচারক এবং একজন দক্ষ আইনজীবী একসঙ্গে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে থাকায় তিনি আশা করেছিলেন যে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক আইন এবং নীতিমালার সংস্কারের সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু এই সম্ভাবনাময় সমন্বয়ের একজনের আকস্মিক পদত্যাগে তিনি মর্মাহত বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ