মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রবিবার (১৪ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মৌলভীবাজারের শিক্ষার্থী ও তরুণ উদ্ভাবক সাজ্জাদুল ইসলামের উদ্ভাবিত পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পণ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে সাজ্জাদুল ইসলাম তার গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি পচা ও পরিত্যক্ত সবজি থেকে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল পলিথিন তৈরির প্রযুক্তি এবং কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে ঢেউটিন, টাইলস ও বোর্ড উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, দেশে বিপুল পরিমাণ সবজি প্রতিদিন নষ্ট হয়ে যায়, যা সাধারণত বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়। এসব পরিত্যক্ত সবজি ব্যবহার করে জৈব উপাদানসমৃদ্ধ পচনশীল পলিথিন তৈরি করা সম্ভব, যা পরিবেশ দূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একইসঙ্গে কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক বর্জ্যের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
উপস্থাপনা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ উদ্ভাবকের গবেষণা ও সৃজনশীল উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগই ভবিষ্যতের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। দেশীয় কাঁচামালনির্ভর এবং পরিবেশবান্ধব এসব প্রযুক্তি দেশের শিল্প, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী সাজ্জাদুল ইসলামের উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ চালিয়ে যেতে তাকে উৎসাহ প্রদান করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশীয় সম্পদ ও কৃষিভিত্তিক কাঁচামাল ব্যবহার করে উদ্ভাবিত এসব প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তরুণ উদ্ভাবকদের জন্যও এটি অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে।
তরুণ উদ্ভাবক সাজ্জাদুল ইসলামের এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই শিল্পায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন হিসেবে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।