চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেছেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং আধুনিক বাংলাদেশের দূরদর্শী রূপকার। সংকটময় সময়ে তাঁর ঐতিহাসিক ঘোষণা ও নেতৃত্ব দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। তাঁর সততা, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদী দর্শন আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়।”
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
পরে বেলায়েত হোসেন নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সম্প্রতি নিহত রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল করিম চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান।
বেলায়েত হোসেন বলেন, “রাঙ্গুনিয়ার এই পবিত্র মাটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এক ঐতিহাসিক স্থান। আমরা তাঁর আদর্শ ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাব।”
তিনি আরও বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে আমাদের নেতাকর্মীরা বৈষম্য, বঞ্চনা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন, পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। অসংখ্য নেতাকর্মী একাধিক মামলায় বারবার কারাগারে গেছেন। জিয়াউর রহমানের আদর্শই আমাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।”
সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, “আজ বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করছে। আমাকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। আমি চট্টগ্রামকে একটি নান্দনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে চাই।”
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের প্রতি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নগর ও সিডিএ’র স্বার্থে আমি আপসহীন থাকতে চাই। কোনো অবৈধ দখলদারকেও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা কাজ পাবেন, তবে কাজের মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। সবার আগে সরকারি স্বার্থই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাদেক, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরওয়ার উদ্দিন সেলিম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ তালুকদার, জসিম চৌধুরী ও শাওন উদ্দিন রকি, উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এম. মাসুদ আলম, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আশরাফুল হক হারুন ও সদস্য সচিব আলী নুর তালুকদার মনি, রাউজান উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাহজাহান সাহিল, রাউজান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব একরামুল মিয়া এবং উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্য নিজাম চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।