রাজধানীতে পার্বত্য অঞ্চলের কেমিক্যালমুক্ত ও সুস্বাদু ফলের বাজার সম্প্রসারণ, বিপণন, প্রদর্শন, বাজারজাতকরণ এবং সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি জানান, মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) স্থাপন করা হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার রাজধানীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স-এর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘পাহাড়ি ফল মেলা-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম। এসময় বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব কংকন চাকমা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ-এর চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ-এর চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার রিজাউল করিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব বলেন, এবারের পাহাড়ি ফল মেলা সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ছিল। তিন পার্বত্য জেলার উদ্যোক্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক। তিনি জানান, এবারের আয়োজনে চিহ্নিত ছোটখাটো সমস্যাগুলো দূর করে আগামীতে আরও পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে মেলার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি মেলা প্রাঙ্গণে স্থানীয় শিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
উদ্যোক্তাদের পক্ষে বিনীতা চাকমা, চংরেং ম্রো এবং কংকনা চাকমা মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও ফল বিক্রির সুযোগ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে মেলায় অংশগ্রহণকারী সেরা উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিশেষ পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৭ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত বেইলি রোডের পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ‘পাহাড়ি ফল মেলা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই মেলায় তিন পার্বত্য জেলা থেকে আসা উদ্যোক্তারা ৩০টি স্টলে আম, আনারস, কাঁঠাল, কলার পাশাপাশি রক্তফল (রসকো), রাম্বুটান ও বুনোবেলের মতো বিরল পাহাড়ি ফল প্রদর্শন ও বিক্রি করেন। আয়োজকদের দাবি, দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া ও কেনাকাটায় এবারের মেলা সফলতা অর্জন করেছে।