অপরাধী যে দলের বা পরিচয়েরই হোক না কেন, কোনো ধরনের অন্যায় ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আপোষ করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
তিনি বলেন, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। দুর্বৃত্তায়ন কিংবা চাঁদাবাজির মতো অপরাধে কারও রাজনৈতিক পরিচয় লাইসেন্স হিসেবে গণ্য হবে না।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার অপরাধ দমনে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। হাটহাজারী ঐতিহ্যগতভাবেই আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অগ্রগামী। সম্প্রতি হাটহাজারীতে সংঘটিত একটি চাঁদাবাজির ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি ব্যক্তিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর যারা তাঁর সঙ্গে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, তাদের প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তবে কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে অন্যায় বা অপরাধে জড়ানোর চেষ্টা করলে দলীয় কিংবা আইনি—কোনোভাবেই তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সন্ত্রাস ও অপরাধীর কোনো দল, বর্ণ বা সমাজ নেই; তাদের পরিচয় কেবলই অপরাধী।”
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক পরিচয়ের আড়ালে যারা অপকর্ম ও দুর্বৃত্তায়ন চালানোর চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল বা সামাজিক পরিচয় ব্যবহার করে যারা শান্ত জনপদকে অশান্ত করার চেষ্টা করবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতর আইনি ব্যবস্থা নেবে।
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে তৎপর থাকার আহ্বান জানান তিনি।
হাটহাজারীবাসীর প্রতি আবেগ ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৯ বছর ধরে তিনি হাটহাজারীর মানুষের সুখে-দুঃখে এবং বিপদে-আপদে পাশে ছিলেন। ইনশাআল্লাহ, আমৃত্যু এলাকার মানুষের একজন সন্তান ও ভাই হিসেবে যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবেন।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।