শিরোনাম
নাচের ছন্দে কেয়ার পথচলা, জাতীয় পুরস্কার থেকে ‘নৃত্য রত্ন’ সম্মাননা চবিতে গ্রীন ভয়েসের উদ্যোগে ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান ‘পাত্রী চাই’ দিয়ে বড় পর্দার পথে সামিয়া আক্তার রিতা ডবলমুরিংয়ে ১৫ আগস্টের আলোচনা সভা: সিইউজে সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদকসহ ১৫ জন আটক বেসরকারিভাবে জ্বালানি আমদানিতে আপত্তি নেই, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা: এয়াকুব জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা: কর্ণফুলী চ্যানেলে বন্দর কর্তৃপক্ষের অভিযান ‘প্রতিটি ঘরে গড়ে তুলতে হবে কুরআনের পরিবেশ’—পটিয়ায় সবক গ্রহণ অনুষ্ঠানে বক্তারা চন্দনাইশে বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালন সংকটে দলের পাশে রিজভী, এবার বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রামে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রশাসন-পুলিশ
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

নাচের ছন্দে কেয়ার পথচলা, জাতীয় পুরস্কার থেকে ‘নৃত্য রত্ন’ সম্মাননা

হৃদয় খান / ৩৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে নাচের সঙ্গে পরিচয় কেয়ার। শৈশবের সেই ছোট্ট বয়সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন নৃত্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে নাচের প্রতি যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেটিই পরিণত হয়েছে তার জীবনের অন্যতম প্রধান সাধনায়। বাবা-মায়ের উৎসাহ, পরিবারের সহযোগিতা এবং নিজের একাগ্রতা তাকে ধীরে ধীরে একজন দক্ষ নৃত্যশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শৈশব থেকেই নাচকে নিজের আগ্রহ ও প্রতিভা বিকাশের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন কেয়া। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে মঞ্চে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নৃত্যের নানা কৌশল ও শৈলী আয়ত্ত করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার এই পরিশ্রমের স্বীকৃতিও আসতে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের মাধ্যমে।

 

 

কেয়ার নৃত্যজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার অর্জন। ২০০৮, ২০০৯ এবং পরবর্তীতে ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ধারাবাহিক এই সাফল্য তাকে নৃত্যচর্চায় আরও উৎসাহিত করে এবং নিজের প্রতিভাকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে।

২০১৪ সালে ‘চলো আয়েশার নাচিয়ে’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ তার নৃত্যজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে। এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন কেয়া। টেলিভিশনভিত্তিক এই আয়োজনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তার নৃত্য প্রতিভা আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে একজন পরিণত নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থানও আরও দৃঢ় করতে সক্ষম হন তিনি।

পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আয়োজনেও নিজের নৃত্যদল নিয়ে অংশ নেন কেয়া। শুধু নিজে নৃত্য পরিবেশন করেই থেমে থাকেননি; নতুন প্রজন্মের নৃত্যশিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও নৃত্যচর্চার সুযোগ তৈরি করতেও কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

এই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠা করেন নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘মণিপুরী অনুরাগ নৃত্যালয়’। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে মণিপুরী নৃত্যের পাশাপাশি লোকনৃত্য ও সৃজনশীল নৃত্য নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন কেয়া। তার প্রতিষ্ঠানের শিল্পীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিদেশের বিভিন্ন আয়োজনেও বাংলাদেশের নৃত্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।

টেলিভিশনেও নৃত্যশিল্পী হিসেবে কেয়া ও তার দলের উপস্থিতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের নৃত্যভিত্তিক অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে নিজেদের পরিবেশনা তুলে ধরেছেন তারা। ফলে মঞ্চের পাশাপাশি টেলিভিশনেও কেয়ার নৃত্যচর্চার বিস্তার ঘটেছে।

দীর্ঘদিনের এই সাধনা ও নৃত্যের প্রতি নিবেদনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে সোহাগ ডান্স ট্রুপ আয়োজিত ‘নৃত্য রত্ন’ সম্মাননা অর্জন করেন কেয়া। এই পুরস্কার তার জন্য শুধু একটি সম্মাননা নয়, বরং দীর্ঘ নৃত্যজীবনের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। নতুন এই অর্জন তাকে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।

তবে কেয়ার এই পথচলা ছিল না একেবারেই মসৃণ। একজন নারী নৃত্যশিল্পী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় নানা বাধা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। কিন্তু কোনো প্রতিবন্ধকতাই তাকে নৃত্যচর্চা থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। পরিবারের সহযোগিতা ও নিজের দৃঢ় মনোবলকে শক্তি হিসেবে নিয়ে প্রতিটি বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে গেছেন তিনি।

কেয়ার কাছে নাচ শুধু একটি শিল্পচর্চা নয়; এটি তার জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা একটি অনুভূতি। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, একজন নৃত্যশিল্পীর জন্য প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও নিজের সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা। সেই বিশ্বাস থেকেই নিজের নৃত্যচর্চার পাশাপাশি অন্যদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

আগামীতেও নৃত্যকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে এগিয়ে যেতে চান কেয়া। নিজেকে আরও দক্ষ ও গুণী নৃত্যশিল্পী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নৃত্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে চান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যধারাগুলোকে আরও বড় পরিসরে দেশ-বিদেশের দর্শকের সামনে তুলে ধরার স্বপ্ন রয়েছে তার।

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে যে নাচের ছন্দে তার পথচলা শুরু হয়েছিল, জাতীয় পর্যায়ের একাধিক পুরস্কার পেরিয়ে সেই পথচলা আজ পৌঁছেছে ‘নৃত্য রত্ন’ সম্মাননায়। কেয়ার কাছে এই অর্জন যেমন অতীতের পরিশ্রমের স্বীকৃতি, তেমনি ভবিষ্যতের দীর্ঘ পথচলার নতুন প্রেরণা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ