শিরোনাম
সৌদিতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন, মানবপাচার চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল বোটসহ ১৬ জেলেকে উদ্ধার করেছে নৌবাহিনী রেলওয়ের নামে ভুয়া ফেসবুক-ইউটিউব অ্যাকাউন্ট, সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক শক্তি গড়ার প্রত্যয় এনসিপির চট্টগ্রাম উত্তর জেলায় বাঁশখালীতে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা ৪২০ পরিবারকে ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা সহায়তা সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ চবিতে প্রথম বারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে বাস মমিনুলকে রেল শ্রমিক দলের সভাপতি উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ সাতকানিয়ায় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রার্থীদের কাছে অর্থ দাবি, সতর্কবার্তা স্বপ্নের পথে আত্মবিশ্বাসী মডেল শান্তার আজ জন্মদিন
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন

সৌদিতে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন, মানবপাচার চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

বার্তা টুডে ডেস্ক / ২৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

অনলাইন বিজ্ঞাপনে সৌদিতে ড্রাইভিং ভিসায় মাসে ২,৫০০ রিয়াল বেতনের চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার প্রলোভন; প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া একটি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি)।

গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ বিকেলে রাজধানীর বনানী থানার সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি স্মার্টফোন, কয়েকটি রেজিস্টারসহ মানবপাচার ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার গাজীর হাট এলাকার মো. শামীম (৪০), সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার চামুরদানি এলাকার মো. রুহুল আমিন (২৪), টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঘোলারপাড়া এলাকার মো. হৃদয় হাসান (২৬), গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার নমানিয়া এলাকার আবু রায়হান (২৯) এবং ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দীঘলগাঁও এলাকার মো. সানি মিয়া (২৫)।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় আকর্ষণীয় বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশগামীদের টার্গেট করত। বিজ্ঞাপনে মাসিক ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তার কথা বলা হতো। আগ্রহীরা বিজ্ঞাপনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে তাদের রাজধানীর বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকায় অবস্থিত একটি অফিসে যেতে বলা হতো।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, এমনই একটি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে এক ভুক্তভোগী চক্রটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাকে সৌদি আরবের একটি কোম্পানিতে ড্রাইভিং ভিসায় চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়। বিদেশ যাওয়ার আগেই চুক্তির পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে বলে তাকে জানানো হয়।

চুক্তির পর বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ব্যাংক ও নগদে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা নেয় চক্রটি। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাকে ড্রাইভিং ভিসা না দিয়ে সৌদি আরবের ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতারণার শিকার ওই ব্যক্তি আইনি ব্যবস্থা নেন।

এ ঘটনায় তিনি বনানী থানায় ২৪ আগস্ট মামলা করেন। মামলায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ১৫, ১৬, ১৯ ও ২০ ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একই কৌশলে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আনুমানিক ১৯ লাখ টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চক্রটির প্রতারণার অন্যতম কৌশল ছিল অনলাইনে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা। বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ করে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি তাদের পাসপোর্টও সংগ্রহ করে নিজেদের হেফাজতে রাখত চক্রের সদস্যরা। এভাবে তারা মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

সিআইডির মানবপাচার শাখা বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ চক্রের প্রতারণার শিকার আরও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

সিআইডি জানিয়েছে, বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন কিংবা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আকর্ষণীয় প্রস্তাবে প্রলুব্ধ হয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর করা উচিত নয়। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এছাড়া ভিসা করে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখা, ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ