শিরোনাম
জন্মদিনে বিশেষ ফটোশুট, বলিউডি আয়োজনে মৌ রহমান সীতাকুণ্ড থেকে আনোয়ারা, ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনায় বদলে যাবে চট্টগ্রামের নগরচিত্র ৬ ইউনিয়ন নিয়েই উত্তর সাতকানিয়া থানা, অন্য এলাকা নয় ৩৫ বছর ধরে বসবাস, উচ্ছেদে বাধা: সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের অভিযান স্থগিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ থেকে এখন ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এ্যানি অটোমেশনের পথে চট্টগ্রাম বন্দর, তবু কমছে না হয়রানি টেন্ডারে বাদ, পরে অপারেটর—কীভাবে? কুতুবদিয়া-বহির্নোঙরে জাহাজ বরাদ্দ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন বিরোধ পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর বায়েজিদ লিংক রোড থেকে ৮ হাজার ২৮৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ রোহিঙ্গা গ্রেফতার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন

৩৫ বছর ধরে বসবাস, উচ্ছেদে বাধা: সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের অভিযান স্থগিত

বার্তা টুডে চট্টগ্রাম / ৪৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জোড়আমতল এলাকায় রেলওয়ের জমিতে বসবাসকারী প্রায় ৩০০ পরিবারের উচ্ছেদ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেললাইনের পুরোনো সেতু ইয়ার্ডসংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা এলাকায় পৌঁছে বসতি খালি করার নির্দেশ দিলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের ঘিরে ধরেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দারা রেলওয়ের কর্মকর্তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উচ্ছেদ অভিযান না চালিয়ে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দারা উচ্ছেদের আগে ক্ষতিপূরণ এবং অন্তত তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়ার দাবি জানান। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাঁদের এক মাস সময় দিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বরের উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বেলা ১১টার দিকে রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী কর্মকর্তাদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে বসতি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানও দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কায় সরাসরি উচ্ছেদে না গিয়ে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে স্থানীয় ১০ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে উচ্ছেদের আগে ক্ষতিপূরণ এবং অন্তত তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

শেষ পর্যন্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এক মাস সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে কোনো স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই অভিযান স্থগিত করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রোকসানা বেগমের ভাষ্য, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে তাঁদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত ও বসবাসের জায়গা হারানোর পর তাঁরা রেলওয়ের কলোনি এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন। তাঁর দাবি, প্রায় ৩৫ বছর ধরে বসবাস করলেও সরকার তাঁদের জায়গা বন্দোবস্ত দেয়নি। এর আগে একাধিকবার উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলেও বাস্তবে অভিযান হয়নি। এবার কয়েক দিন আগে আবার নোটিশ দেওয়া হয় এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এলাকায় মাইকিং করা হয়।

রোকসানার প্রশ্ন, এত বছর ধরে যেখানে বসবাস, সেখান থেকে উচ্ছেদ করলে তাঁদের যাওয়ার জায়গা কোথায়?

আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, তাঁদের নিজস্ব জায়গা-জমি নেই। উচ্ছেদ করা হলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাবেন, তা তাঁরা জানেন না। ক্ষতিপূরণ ছাড়া জায়গা ছাড়বেন না বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বৈঠকে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ইফতেখার আহম্মদ বলেন, ওই এলাকায় প্রায় ৩০০ ভূমিহীন পরিবার বসবাস করে। তাঁদের মধ্যে রেলওয়ের সাবেক কর্মচারীদের পরিবার যেমন রয়েছে, তেমনি ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারও রয়েছে। হঠাৎ উচ্ছেদ না করে অন্তত ছয় মাস সময় ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছিল। পরে রেলওয়ে এক মাস সময় দিয়েছে।

তবে রেলওয়ের নথিপত্রে দেখা যায়, বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরীর স্বাক্ষর করা ৭ সেপ্টেম্বরের উচ্ছেদ নোটিশে ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের রেলওয়ের জমি থেকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল।

এখানেই স্থানীয়দের দাবির সঙ্গে রেলওয়ের নথির একটি পার্থক্য সামনে আসে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা কয়েক শ। কিন্তু উচ্ছেদ নোটিশে নাম রয়েছে ২১ জনের। ফলে উচ্ছেদ কার্যক্রমের আওতা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও রেলওয়ের জমিতে বসবাসের বৈধ অধিকার তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও আলাদা আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের দীর্ঘদিনের বসবাস, ভূমিহীনতা ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে আনছেন। রেলওয়ের পক্ষ থেকে জমি দখলমুক্ত করার নিয়মের কথা বলা হচ্ছে।

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার জন্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পরে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করা হয়। বাসিন্দারা উচ্ছেদের আগে ক্ষতিপূরণসহ তিন মাস সময় চেয়েছিলেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাঁদের এক মাস সময় দিয়েছে।

তবে পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই বলে উচ্ছেদে আসা রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

উচ্ছেদ অভিযান স্থগিতের কারণ এবং এক মাস সময় দেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেলওয়ের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এখন এক মাসের এই সময়ই হয়ে উঠেছে ওই পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সমঝোতার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, দীর্ঘদিন বসবাসকারী পরিবারগুলোর পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনায় আসবে কি না—তা স্পষ্ট নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ