শিরোনাম
অসুস্থ আবু তাহেরের বাবাকে দেখতে বাসায় গেলেন আকতার নবী চৌধুরী বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্যমন্ত্রী, ইজতেমায় ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা নাচ, অভিনয় ও মডেলিংয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান অপূর্ব এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি: গর্ভাবস্থার একটি নীরব জরুরি অবস্থা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে দেখতে চান ফ্লাভিয়া ইসলাম সনাতনী পরিবারের পাশে এজাহার মিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের প্রতিফলন: আবু সুফিয়ান এমপি লাঙ্গলকোট-লাকসাম সেকশনে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত, বরখাস্ত উপসহকারী প্রকৌশলী সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে রাঙামাটিতে নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশনের প্রচারণা রাঙামাটিতে যানবাহন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, সনদ পেলেন ১৭ প্রশিক্ষণার্থী
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন

দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষতা বৃদ্ধি: ইপসার দুই দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি চট্টগ্রাম / ৫৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর সাড়া প্রদান এবং ব্যক্তি, পরিবার ও কমিউনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা)-এর উদ্যোগে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক দুদিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ ও ১১ অক্টোবর ইপসার ওএলআর ইউনিটের আয়োজনে সীতাকুণ্ডে সংস্থাটির মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রে (এইচআরডিসি) এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন ইপসার সমাজ উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক নাছিম বানু। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইপসার সকল কর্মীকে দুর্যোগবিষয়ক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে এবং প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিজ পরিবার ও পরিচিতজনদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এর মাধ্যমে দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে, ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি হবে এবং দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”

প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে দুর্যোগ, ঝুঁকি ও বিপদের ধারণা, বিপদাপন্নতা ও সক্ষমতা, বাংলাদেশের প্রধান দুর্যোগসমূহ, দুর্যোগের কারণ ও ঝুঁকি নিরূপণ, আগাম সতর্কবার্তা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি ও আগাম ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া দুর্যোগের মৌসুমি দিনপঞ্জি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী চিহ্নিতকরণ এবং দুর্যোগের আগে, চলাকালে ও পরে করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় দিনে পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের পরিকল্পনা, ইপসার দুর্যোগবিষয়ক নীতিমালা, বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২, জরুরি যোগাযোগ ও সমন্বয়, অগ্নিনির্বাপণ এবং উদ্ধার কার্যক্রমের প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা, আহত ব্যক্তির তাৎক্ষণিক সেবা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। প্রশিক্ষণের বিভিন্ন অধিবেশনে তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি হাতে-কলমে অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইপসার অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার মুহাম্মদ আতাউল হাকিম, প্রজেক্ট অফিসার (মনিটরিং) এস. এম. শাহরিয়ার আলম, প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা শাহ সুলতান শামীম এবং মো. বখতিয়ার হোসেন।

দ্বিতীয় দিনে প্রশিক্ষণ অধিবেশন পরিচালনা করেন ইপসার অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচির সহকারী পরিচালক নেওয়াজ মাহমুদ, প্লাস্টিক অ্যান্ড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর ফারাহ আমিনা খাতুন এবং সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. বেলাল হোসেন। প্রশিক্ষণে ইপসার রিসোর্স টিমের সদস্যদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিরা প্রশিক্ষক ও সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।

প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইপসার অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচির সহকারী পরিচালক নেওয়াজ মাহমুদ এবং অডিট ইউনিটের ম্যানেজার মিজানুর রহমান।

সমাপনী বক্তব্যে নেওয়াজ মাহমুদ বলেন, “প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন কর্মী সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তিনি অফিস, কর্মক্ষেত্র, পরিবার এবং বৃহত্তর সমাজে মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিয়মিত চর্চা ও অন্যদের সঙ্গে বিনিময়ের মাধ্যমে আরও কার্যকর হয়ে ওঠে। তাই প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর প্রত্যেক কর্মীর দায়িত্বও বেড়ে যায়। অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ এবং অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই প্রশিক্ষণের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হয়।”

ইপসার ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মীকে পর্যায়ক্রমে এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগটি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সংস্থাটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রস্তুতি জোরদার এবং আগাম ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ