শিরোনাম
অসুস্থ আবু তাহেরের বাবাকে দেখতে বাসায় গেলেন আকতার নবী চৌধুরী বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্যমন্ত্রী, ইজতেমায় ৫ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা নাচ, অভিনয় ও মডেলিংয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান অপূর্ব এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি: গর্ভাবস্থার একটি নীরব জরুরি অবস্থা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে দেখতে চান ফ্লাভিয়া ইসলাম সনাতনী পরিবারের পাশে এজাহার মিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের প্রতিফলন: আবু সুফিয়ান এমপি লাঙ্গলকোট-লাকসাম সেকশনে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেন লাইনচ্যুত, বরখাস্ত উপসহকারী প্রকৌশলী সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে রাঙামাটিতে নিরাপদ যাত্রা ফাউন্ডেশনের প্রচারণা রাঙামাটিতে যানবাহন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, সনদ পেলেন ১৭ প্রশিক্ষণার্থী
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন

এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি: গর্ভাবস্থার একটি নীরব জরুরি অবস্থা

ডা. সানজিদা কবির / ৩৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

গর্ভধারণের খবর একটি পরিবারের জন্য আনন্দের মুহূর্ত। কিন্তু কখনো কখনো গর্ভাবস্থার শুরুতেই এমন একটি জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা মা–এর জীবনের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে। এর নাম এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ। প্রাথমিক পর্যায়ে এর লক্ষণ অস্পষ্ট হতে পারে বলে অনেকেই সমস্যাটি বুঝতে দেরি করেন। অথচ দ্রুত শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসা গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি কী?

স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর ভেতরের আস্তরণে স্থাপিত হয়। কিন্তু এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রে নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর বাইরে, সাধারণত ডিম্বনালিতে, স্থাপিত হয়। ডিম্বনালি স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার মতো ভ্রূণের বেড়ে ওঠার উপযোগী নয়। গর্ভাবস্থা বাড়তে থাকলে নালি ফেটে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে। এটি জীবন-হুমকিস্বরূপ জরুরি অবস্থা।
এ ধরনের গর্ভাবস্থা স্বাভাবিকভাবে জরায়ুতে স্থানান্তরিত হয় না এবং একে স্বাভাবিক গর্ভাবস্থায় রূপান্তর করার কোনো চিকিৎসা নেই। তাই দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না?

এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির লক্ষণ সাধারণত গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে দেখা দিতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই লক্ষণ থাকে না। সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
• তলপেটের এক পাশে ব্যথা, যা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
• যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত বা বাদামি রঙের স্রাব।
• পেটব্যথার সঙ্গে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি।
• কাঁধের ডগায় অস্বাভাবিক ব্যথা, বিশেষ করে পেটব্যথা বা দুর্বলতার সঙ্গে থাকলে।
• হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, অজ্ঞান হওয়া বা ধসে পড়ার মতো অবস্থা।
বিশেষ করে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, প্রচণ্ড দুর্বলতা বা কাঁধের ডগায় ব্যথার সঙ্গে রক্তপাত দেখা দিলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আশঙ্কা থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে জরুরি বিভাগে যেতে হবে। গর্ভধারণ পরীক্ষার ফল ইতিবাচক না হলেও গুরুতর লক্ষণগুলো অবহেলা করা উচিত নয়।

কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন?

আগে এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি হয়ে থাকলে পরবর্তী গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ছাড়া ডিম্বনালিতে সংক্রমণ বা ক্ষত, পূর্ববর্তী ডিম্বনালির অস্ত্রোপচার, কিছু প্রজনন-চিকিৎসার ইতিহাস এবং গর্ভধারণের সময় জরায়ুর ভেতরে গর্ভনিরোধক যন্ত্র থাকা অবস্থায় গর্ভধারণের মতো পরিস্থিতিতে ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো পরিচিত ঝুঁকির কারণ না থাকলেও এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি হতে পারে। তাই শুধু ঝুঁকির ইতিহাসের ওপর নির্ভর না করে উপসর্গের প্রতি সতর্ক থাকা জরুরি।

কীভাবে রোগটি শনাক্ত করা হয়?

এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি শনাক্ত করতে চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ, শেষ মাসিকের তারিখ, গর্ভধারণের পরীক্ষা এবং শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করেন। সাধারণত রক্তে বিটা-এইচসিজি (β-hCG) পরীক্ষার ফল এবং ট্রান্সভ্যাজাইনাল আলট্রাসনোগ্রাফির তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

কখনো গর্ভাবস্থা খুব প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে প্রথম আলট্রাসনোগ্রাফিতে গর্ভের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী পুনরায় রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাফি ও চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে। তবে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা রোগীর অবস্থা অস্থিতিশীল হওয়ার লক্ষণ থাকলে অতিরিক্ত পরীক্ষার জন্য জরুরি চিকিৎসা বিলম্বিত করা যাবে না।

চিকিৎসা কীভাবে নির্ধারিত হয়?

চিকিৎসা নির্ভর করে রোগীর শারীরিক অবস্থা, গর্ভাবস্থার অবস্থান, পরীক্ষার ফলাফল এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকির ওপর। নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণ বা ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে, নালি ফেটে গেলে, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হলে অথবা রোগীর অবস্থা অস্থিতিশীল হলে জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং জরুরি চিকিৎসার সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার পর রোগীর শারীরিক সুস্থতা, মানসিক সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ গর্ভধারণ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শও পরিচর্যার অংশ।

সচেতনতা কেন জরুরি?

এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির প্রাথমিক লক্ষণকে অনেক সময় সাধারণ পেটব্যথা বা গর্ভাবস্থার স্বাভাবিক অস্বস্তি বলে মনে হতে পারে। কিন্তু গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে পেটব্যথা বা অস্বাভাবিক রক্তপাতকে অবহেলা করা ঠিক নয়। নিজে থেকে ওষুধ খেয়ে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ-সংক্রান্ত সেবার জনসচেতনতামূলক প্রচারে এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির লক্ষণ শনাক্তকরণ, সময়মতো জরুরি বিভাগে পৌঁছানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা যেতে পারে। হাসপাতালের নির্দিষ্ট জরুরি সেবা ও চিকিৎসা-সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি বিরল নয় এবং এটি দ্রুত গুরুতর অবস্থায় রূপ নিতে পারে। তবে বিপদের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং যথাযথ চিকিৎসা গুরুতর জটিলতা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গর্ভাবস্থার শুরুতে অস্বাভাবিক পেটব্যথা বা রক্তপাত দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নেওয়াই মা–এর স্বাস্থ্য ও জীবন সুরক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ডা. সানজিদা কবির
সিনিয়র কনসালট্যান্ট
অবস্টেট্রিক্স এন্ড গাইনোকোলজি

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম
ইমার্জেন্সি ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট: 09610800444


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ