শিরোনাম
সীতাকুণ্ড থেকে আনোয়ারা, ২৫ বছরের মহাপরিকল্পনায় বদলে যাবে চট্টগ্রামের নগরচিত্র ৬ ইউনিয়ন নিয়েই উত্তর সাতকানিয়া থানা, অন্য এলাকা নয় ৩৫ বছর ধরে বসবাস, উচ্ছেদে বাধা: সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের অভিযান স্থগিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ থেকে এখন ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এ্যানি অটোমেশনের পথে চট্টগ্রাম বন্দর, তবু কমছে না হয়রানি টেন্ডারে বাদ, পরে অপারেটর—কীভাবে? কুতুবদিয়া-বহির্নোঙরে জাহাজ বরাদ্দ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন বিরোধ পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর বায়েজিদ লিংক রোড থেকে ৮ হাজার ২৮৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ রোহিঙ্গা গ্রেফতার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চন্দনাইশ পৌরসভার খসড়া মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন, চিহ্নিত ৯ ওয়ার্ডের নানা সমস্যা
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

টানা বৃষ্টিতে সাতকানিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাঙ্গু ও ডলুর পানি বৃদ্ধি

মিজানুর রহমান রুবেল সাতকানিয়া প্রতিনিধি / ১৪২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি উজানের ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে অব্যাহত বৃষ্টিতে উপজেলার ভোয়ালিয়াপাড়া, রূপকানিয়া, চরতি, কাঞ্চনা, বাজালিয়ার মাহালিয়া, ঢেমশা, কেওঁচিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু স্থান প্লাবিত হয়েছে এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

অবিরাম বৃষ্টির কারণে দানুরমার ঘাটের সাঁকোটি পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে। ফলে নদী পারাপারে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনেও মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাতকানিয়ার দক্ষিণ ভোয়ালিয়াপাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২০২৩ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়া নদীতীরের অংশটি এখনো স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। চলমান ভারী বর্ষণে ওই স্থানে আবারও বড় ধরনের ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে টানা বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকে বৃষ্টির মধ্যেই কষ্ট করে বিদ্যালয়ে যেতে দেখা গেছে।

উপজেলার পূর্ব ছদাহা এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ছদাহা–মাহালিয়া সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে সাঙ্গু ও ডলু নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চলের চর ও বিল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক কৃষকের আবাদি জমি, সবজি ক্ষেত ও বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে সাতকানিয়ায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ধস, নদীতীর ভাঙন এবং নদীতীরবর্তী বসতঘর বিলীন হওয়ার ঝুঁকিও ক্রমেই বাড়ছে।

এ অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, টানা বৃষ্টিপাত ও শঙ্খ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে তা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ