পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী পশুর হাট। এতে প্রধান সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। দুর্ভোগে পড়ছেন দূরপাল্লার যাত্রী, অসুস্থ রোগী, বিদেশগামী যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত মাঠ বা খোলা স্থানের পরিবর্তে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের পাশে গরুর বাজার বসানোর কারণে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে কোরবানির পশু দেখতে ও কিনতে আসা মানুষের ভিড়, যানবাহনের এলোমেলো পার্কিং এবং রাস্তার ওপর পশু ওঠানামার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে যানজট লেগে থাকছে।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান থেকে বাজালিয়া পর্যন্ত প্রধান সড়কের দুই পাশে গরুর হাট বসেছে। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও বান্দরবানগামী বিভিন্ন যানবাহন দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্সকে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার আবারো দস্তিদারহাট এলাকাতে সড়কের দুই পাশে পশুর হাট বসায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সড়কে পশুর হাট বসার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতার অতিরিক্ত সমাগম তৈরি হচ্ছে এবং এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
বাসে যাতায়াতকারী এক যাত্রী বলেন, “ঈদের আগে এমনিতেই সড়কে গাড়ির চাপ বেশি থাকে। তার ওপর রাস্তার পাশে পশুর হাট বসানোর কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।”
আরেক ভুক্তভোগী জানান, “অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় যানজটে আটকা পড়তে হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সও ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”
বিদেশগামী এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“ফ্লাইট ধরতে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তার পাশে হাট বসার কারণে দীর্ঘ যানজটে পড়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কের পরিবর্তে নির্ধারিত মাঠ, খোলা জায়গা বা নির্দিষ্ট স্থানে পশুর হাটের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যানজট নিরসনে প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।