শিরোনাম
চন্দনাইশে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া, এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ বছর ঘুরলেই বন্যা-ভাঙনের আতঙ্ক, সাতকানিয়ায় নদীশাসনের দাবি বাংলাদেশের ওপর আর কোনো তাবেদারি চলবে না- ভূমি প্রতিমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলজ-বনজ গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর বাঁশখালী সফর উপলক্ষে প্রস্তুতি পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা নামল সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ৩৫ নম্বর বক্সীরহাট ওয়ার্ডে যুবদলের বৃক্ষরোপণ হাসিনাকে ফেরানোর অভিযোগে চবিতে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি রোগমুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে ওষুধ বিক্রি, সাতকানিয়ায় চার ভুয়া চিকিৎসকের জরিমানা রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে দিকনির্দেশনা
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন

সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যার ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট: ভেঙেছে বসতঘর-সড়ক, ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১২৬ কোটি টাকা

মিজানুর রহমান রুবেল সাতকানিয়া প্রতিনিধি / ১৪০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

টানা এক সপ্তাহের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যার পর এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। বন্যার পানি নেমে গেলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যায় প্রায় ১২৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া উপজেলার প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা বন্যাকবলিত হয়। বহু পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে। পানি কমলেও অনেকেই এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

বন্যার পানির তীব্র স্রোতে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, কোথাও সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, আবার কোথাও রাস্তা সম্পূর্ণ ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রামপুর বায়তুশ শরফ এলাকায় পানির প্রবল স্রোতে সড়ক ভেঙে গেছে। এছাড়া সাতকানিয়া কলেজ রোড, ছদাহা ফকিরহাট, দক্ষিণ কাঞ্চনা, মৌলভীর দোকান–তালতল সড়ক, কেরানীহাট–চৌধুরীহাট সড়ক এবং নলুয়া-আমিলাইষ সড়কের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বন্যায় শুধু অবকাঠামো নয়, কৃষি ও মৎস্য খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষেত। নষ্ট হয়েছে মাছের ঘের ও পোলট্রি খামার। এতে অনেক কৃষক ও খামারি তাদের বছরের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়েছেন।

বন্যার কারণে অসংখ্য বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ঘর ধসে পড়েছে, কোথাও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার এখনও আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

পৌরসভার দক্ষিণ সামিয়ারপাড়ার বাসিন্দা মো. সেলিম জানান, সারা জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে নির্মিত তার পাকা বাড়িটি বন্যার পানির স্রোতে ধসে গেছে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থে তিনি বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। তিনি বলেন, “মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে নতুন করে শুরু করব বুঝতে পারছি না। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। সরকারের কাছে দ্রুত আর্থিক সহায়তা চাই।”

বন্যার পানি নেমে গেলেও দুর্গত এলাকার মানুষ এখন নতুন সংকটে পড়েছেন। ঘরবাড়িতে জমে থাকা কাদা ও আবর্জনা পরিষ্কার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তারও প্রয়োজন রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সবুজ কুমার দে জানান, প্রাথমিকভাবে সাতকানিয়ায় ৪৫টি সড়কের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অংশ এবং চারটি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সব খাতের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুনর্বাসন ও অবকাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, ভেঙে যাওয়া বসতবাড়ি পুনর্নির্মাণে সরকারি সহায়তা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কঠিন হয়ে পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ