শিরোনাম
ন্যাশনাল গ্রিন মিশন বাস্তবায়নে রেলওয়ের বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাবা হারানো তিন বছরের শিশুর পাশে সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন শাহ আমানত বিমানবন্দরে ২৩৫ কার্টন সিগারেট জব্দ, রাজস্ব প্রায় ৬ লাখ টাকা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, অনিশ্চয়তায় ১ কোটি ৭০ লাখ নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা কেরানীহাটের নিত্যদিনের যানজটে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী, রোগী, কর্মজীবী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা সাতকানিয়ায় পৃথক ঘটনায় জমি বিরোধে নিহত ১ জন সহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উষ্ণ অভ্যর্থনায় মুগ্ধ শিক্ষামন্ত্রী প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ: তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে ফুটবল প্রতিভা খোঁজার উদ্যোগ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রশংসিত পদুয়ার চেয়ারম্যান প্রার্থী আরমানুল ইসলাম নবাব অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, অন্যায় করলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, অনিশ্চয়তায় ১ কোটি ৭০ লাখ নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা

বার্তা টুডে ডেস্ক / ২৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬

নগরাঞ্চলের অতি দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তি ও অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ২১টি পৌরসভায় চলমান স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে লাখো দরিদ্র নগরবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কনফারেন্স হলরুমে কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর (ক্যাপ) ও কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদে জনগণের চিকিৎসাসেবাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও নগর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল স্রোতধারায় পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে নগরাঞ্চলের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা এখনো প্রকল্পনির্ভর ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

বক্তারা জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ২১টি পৌরসভায় ৪৫টি নগর মাতৃসদন এবং ১৬৭টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১৫টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট জনবল ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষকে বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছেন।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ নারী প্রসবপূর্ব সেবা গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি প্রায় ১২ লাখ শিশুকে টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য চালু থাকা ‘ফ্রি লাল কার্ড’ সুবিধার মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন।

তবে গত ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে নগর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নগর স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনো নতুন কোনো চুক্তি বা কার্যকর অর্থায়নের ব্যবস্থা হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলো মানবিক বিবেচনায় নিজেদের অর্থায়নে সাময়িকভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রেখেছে। তবে চলমান ব্যয় দীর্ঘ সময় বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বক্তাদের আশঙ্কা, জুলাই মাসের পর প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও চুক্তির ব্যবস্থা না হলে এসব প্রতিষ্ঠান আর সেবার ব্যয়ভার বহন করতে পারবে না। ফলে নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জনগণের স্বাস্থ্য আন্দোলন বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মো. আমিনুর রসুল বলেন, নগরাঞ্চলের অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে লাখো মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পরিকল্পিত বিকল্প ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত না করে হঠাৎ করে সেবা বন্ধ করা হলে তা জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য সংকট বা দুর্যোগ সৃষ্টি করতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের নগরাঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বিভিন্নভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও অতি দরিদ্র মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে, গর্ভবতী নারীরা প্রয়োজনীয় প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এবং মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া নগর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হলে এতে নিয়োজিত প্রায় সাড়ে তিন হাজার দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট জনবলের কর্মসংস্থানও হুমকির মুখে পড়বে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণে গড়ে ওঠা এই দক্ষ জনবল হারিয়ে গেলে ভবিষ্যতে নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে বলেও মত দেন বক্তারা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে নগর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম টেকসই ও অব্যাহত রাখতে সাত দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বর্তমানে সেবা পরিচালনাকারী এনজিওগুলোর সঙ্গে দ্রুত চুক্তি নবায়ন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যের ‘লাল কার্ড’ সুবিধা পুনর্বহাল, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত রূপরেখা প্রণয়ন, বিদ্যমান দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মসংস্থান ও অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ এবং দেশের শতভাগ নগরবাসীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পাশাপাশি অতিথি হিসেবে মতামত দেন আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন, জনগণের স্বাস্থ্য আন্দোলন বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মো. আমিনুর রসুল, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি ও সারাবাংলা ডটনেটের সিটি এডিটর রফিকুল ইসলাম আজাদ, বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ও সমাজকালের যুগ্ম সম্পাদক প্রতীক ইজাজ, বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের খায়রুজ্জামান কামাল এবং ডেইলি স্টেটের বার্তা সম্পাদক মিহির বিশ্বাস।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওরের (ক্যাপ) নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার রেবেকা সান ইয়াত। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিওএসসি ইয়ুথ গ্রুপের ফোকাল পারসন হেনা আক্তার রুপা। সেশন চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিওএসসি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হোসনে আরা বেগম রাফেজা। এ ছাড়া বস্তিবাসীদের পক্ষে বক্তব্য দেন মোছাম্মৎ ছালমাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, নগর স্বাস্থ্যসেবা কোনো সাময়িক প্রকল্প নয়; এটি নগরবাসীর মৌলিক অধিকার। তাই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার অজুহাতে সেবা বন্ধ না করে দ্রুত অর্থায়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব হস্তান্তরের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ