জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, এখনো যারা অসহায় অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। একইভাবে জুলাই শহীদদের পরিবার ও আহতদের সহায়তায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
মেয়র বলেন, “আমরা যদি স্ব-স্ব ক্ষেত্র থেকে জুলাই-যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা করতে পারি, তাহলে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মা শান্তি পাবে।”
৫ আগস্ট দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহনওয়াজ, কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ধারাবাহিকতা।
তিনি বলেন, “দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। জনগণের অংশগ্রহণ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে।”
রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ দূর করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, সমাজকে ‘আমি’ থেকে ‘আমরা’-তে উত্তরণ ঘটাতে হবে। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কৃতিত্বের পরিবর্তে সম্মিলিত অর্জনকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, “আমি এটা করেছি—এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমাদের বলতে হবে, আমরা সবাই মিলে এটি করেছি। আমরা সবাই মিলে আন্দোলন করেছি এবং সম্মিলিতভাবেই গণঅভ্যুত্থানের ফল পেয়েছি। এই উপলব্ধি তৈরি না হলে সমাজে বিভেদ ও মতপার্থক্য থেকে যাবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সে সময় কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল এগিয়ে এসেছিল। মানবিক সংকটের মুহূর্তে দলীয় বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মেয়র বলেন, “আমরা যতই রাজনীতি করি না কেন, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতাকে সামনে আনতে হবে। আহত ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।”
জুলাই আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে তিনি নিউরোসার্জারি, অর্থোপেডিক্স, চক্ষু ও ইএনটি বিভাগে বহু আহত রোগীকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখেছেন। তাদের অনেকেই গুরুতর আহত ও অসহায় অবস্থায় ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপম চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদক মো. রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ, সাইফুল ইসলাম শিল্পী, আরিচ আহমদ শাহসহ প্রেস ক্লাবের সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।চাইলে এ প্রতিবেদনের জন্য , ৫টি ভিন্ন শিরোনাম এবং সাবহেডিংও তৈরি করে দিতে পারি।