পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসন বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতাকে সাময়িক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য সুস্থ, নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরের কালুরঘাটের জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে জেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, “একা একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান কখনো একটি শহরকে পরিবর্তন করতে পারে না। নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে। পরিবেশকে সুন্দর ও বসবাসযোগ্য রাখতে প্রত্যেক নাগরিককেই দায়িত্ব নিতে হবে।”
তিনি জানান, গত ২৫ জুলাই থেকে পুরো জেলায় ধারাবাহিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। প্রথম দিনের অভিযানে ৬ হাজার ২২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন এবং বিভিন্ন সরকারি অফিসের ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ১৩৫ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পুকুর ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, পরিচ্ছন্নতা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের কর্মসূচি নয়। এটি মানুষের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। অভ্যাসে পরিণত হলে মানুষ নিজ দায়িত্বেই নিজের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখবে।
তিনি জানান, শনিবার জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সের পাশাপাশি চাঁদগাঁও, পটিয়াসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ উদ্যোগ বছরব্যাপী চলবে এবং পর্যায়ক্রমে আরও বিস্তৃত করা হবে।
প্রায় ১৬ একর ৩৮ শতক জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্সকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও দর্শনার্থীবান্ধব করে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, এখানে জাতীয় সংসদ ভবন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, কান্তজীর মন্দির, কার্জন হল ও আহসান মঞ্জিলসহ দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতিরূপ নিয়ে ‘মিনি বাংলাদেশ’ গড়ে উঠেছে।
দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহী মানুষের জন্য জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ স্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, কালুরঘাটের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও এ স্থানের সঙ্গে মানুষের আবেগ ও আগ্রহ জড়িয়ে রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটিকে নিরাপদ ও মানসম্মত বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় জেলা প্রশাসন।
সম্প্রতি কমপ্লেক্সটির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো সংস্কার ও কমপ্লেক্সটি পুনরায় সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্কারকাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছে। এর আগেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুরো এলাকা পরিচ্ছন্ন করে দর্শনার্থীদের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রামকে নান্দনিকভাবে সাজানোর আরও কয়েকটি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকেও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদউল্লাহ জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু দেশ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করলেই হবে না, মানুষের মনও পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দিতে হবে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারসহ জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে ধারাবাহিক সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে নিতে নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।চাইলে এটিকে আরও ছোট অনলাইন নিউজ, ৫টি বিকল্প শিরোনাম বা ফেসবুক পোস্টের উপযোগী ক্যাপশন হিসেবেও সাজিয়ে দিতে পারি।