শিরোনাম
জিয়া-খালেদার পর এবার জাতিসংঘে তারেক রহমান গোমদণ্ডী পাইলট মডেল স্কুলে দায়িত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ক্যান্সার এখন মহামারি: বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ১৭ ফ্যাশন হাউজের তারকাখচিত আয়োজনে বাংলাদেশ ফ্যাশন রানওয়ে উইক রেললাইন অবরোধের পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক, ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংয়ে দ্রুত গেটম্যান দেওয়ার উদ্যোগ শীলকূপে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ ক্যাম্পেইন, সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে ফলজ গাছের চারা নৃত্যের মঞ্চ পেরিয়ে অভিনয়ে মুনমুনের নতুন স্বপ্ন মানবাধিকার সুরক্ষায় চট্টগ্রামে আসক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম জোরদার নাঙ্গলমোড়া শামসুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার নতুন গভর্নিং বডি, সভাপতি লায়ন সালাউদ্দীন আলী সাতকানিয়ায় প্রান্তিক পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নে ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ সমাপ্ত
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন

জিয়া-খালেদার পর এবার জাতিসংঘে তারেক রহমান

বার্তা টুডে ডেস্ক / ৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবের বরাতে বাসস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানটি সকাল ৬টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৩৮ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রয়েছে। এতে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন।

নিউইয়র্ক সফরটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি হবেন এ বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য দেওয়া তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য। এর আগে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাদশ বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। এরপর তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন।

জাতিসংঘের নথিতে জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের ভাষণ এবং খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের ভাষণের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। জিয়াউর রহমান তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা মোকাবিলা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সহযোগিতা ও শান্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। আর ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়া গণতন্ত্র, উন্নয়ন, ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর অধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

ফলে তারেক রহমানের এবারের জাতিসংঘ সফরকে জিয়া পরিবারের জাতিসংঘ-সম্পৃক্ততার চার দশকেরও বেশি সময়ের ধারাবাহিকতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান, ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার পর ২০২৬ সালে তারেক রহমান একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও উঠে আসতে পারে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এসব আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠক ও পার্শ্ব-আয়োজনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি, বৈশ্বিক বৈষম্য এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকবে তাঁর।

এবারের অধিবেশনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো—বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations that Delivers for All’।

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর শুধু বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ নয়; জিয়া পরিবারের তিন সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের দীর্ঘ ধারাবাহিকতারও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের ভাষণ, খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের উপস্থিতির পর ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ