শিরোনাম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলসের নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত এডভোকেট এম আর মঞ্জু রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে: ডিসি জাহিদ সাংবাদিক কামরুলের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন চবিতে সিট নিয়ে শিবির-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চট্টগ্রামে পানি সরবরাহে নতুন পিপিপি মডেল: আমির খসরু কাপ্তাইয়ে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা ‘গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা বিএনপির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতারণা’—মুহাম্মদ শাহজাহান রেলওয়েতে বড় রদবদল: পূর্বাঞ্চলের জিএম সুবক্তগীণ হলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বার্তা টুডে ডেস্ক / ২৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও টেকসই রাজনৈতিক সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন অন্য কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংঘাত বা সংকটের আড়ালে চাপা পড়ে না যায়। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে বিষয়টি সবসময় সক্রিয় রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ও কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আশ্রিত প্রায় ১৫ লাখ (ইউএনএইচসিআরের হিসাবে ১২ লাখ) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিককে পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা এবং বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা দিয়ে আসছে। তবে সময়ের সঙ্গে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়েছে। এতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পের চারপাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সীমান্ত বেড়া (ফেন্সিং) ও সুনিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আবারও সফল প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটিও কাজ করছে। বেসামরিক প্রশাসন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংস্থার সমন্বয়ে সরকার ‘হোল-অফ-গভর্নমেন্ট’ দৃষ্টিভঙ্গিতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা ছাড়া দীর্ঘদিন মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদ কমে যেতে পারে। তাই জরুরি ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি দ্রুত একটি ‘ট্রানজিশনাল স্ট্র্যাটেজি’ গ্রহণ করতে হবে। এর মূল লক্ষ্য হবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসইভাবে ফিরে যাওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা।

অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আইজিসিএফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া গোলটেবিল আলোচনা পরিচালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।

আলোচনায় বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন, বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, টেকসই আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ, জাতীয় ঐক্য এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামোর সমন্বয়ে বাংলাদেশ দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ