চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অংশে তীব্র যানজট এবং বিশৃঙ্খলার পেছনে লোকাল ও দূরপাল্লার বিভিন্ন বাসের পাশাপাশি অন্যতম বড় একটি কারণ হিসেবে ‘ঈগল’ পরিবহন বারবার আলোচনায় এসেছে।
মহাসড়কের সংকীর্ণ লেনে বাসের দীর্ঘ লাইন ও অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে।
সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, এই যানজটের পেছনে মূল কারণগুলো হলো:
রাস্তা দখল করে যাত্রী ওঠানামা: লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার কেরানীহাটের মতো ব্যস্ত স্টেশনগুলোতে এই পরিবহনের বাসগুলো রাস্তার ওপর আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রী ওঠানামা করায়।
এছাড়াও রাস্তার দু’পাশে অবৈধ ভাবে ভাসমান দোকান গুলো বসার কারণে সৃষ্টি হয় যানজট।
ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য ও সড়ক অবরোধ: এই পরিবহনের মিনিবাসগুলোতে প্রায়ই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ ওঠে। এই ভাড়ানৈরাজ্যের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ যাত্রী এবং ছাত্র-জনতা বেশ কয়েকবার মহাসড়ক অবরোধ করেছেন, যার ফলে কেরানীহাট এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজট লেগে থাকে।
বেপরোয়া গতি ও প্রতিযোগিতা: সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দুই লেনের এই মহাসড়কে অন্যান্য পরিবহনের সাথে প্রতিযোগিতা এবং বেপরোয়া গতির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তের মধ্যে পুরো সড়ক অবরুদ্ধ করে ফেলে।
যানজট ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে লোহাগাড়া থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে ‘ঈগল’ পরিবহনের বেশ কয়েকটি বাস এবং অবৈধ থ্রি-হুইলারও আটক করেছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য বর্তমানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের এই অংশটি চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে, যা সম্পন্ন হলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।