শিরোনাম
অসুস্থ প্রবাসী শোয়াইবুল ইসলামের খোঁজে হাসপাতালে এমপি মাওলানা জহিরুল ইসলাম মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে নির্ভীক সাংবাদিকতার আহ্বান কর্ণফুলী প্রেস ক্লাবের সাফিয়া খানম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ তরুণদের শিল্পকর্মে ইতিহাসের প্রতিফলন: মীর হেলাল চন্দনাইশে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ জাগ্রত ফোরামের উদ্যোগে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের ঈদ পূর্ণমিলনী শনিবার পার্বত্য চট্টগ্রামে গৎবাঁধা প্রকল্প নয়, টেকসই উন্নয়নে জোর: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল গণমাধ্যমে শত্রু যখন গণমাধ্যমকর্মী-জে.এম জাবেদ চন্দনাইশে ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে অবহিতকরণ সভা
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন

গণমাধ্যমে শত্রু যখন গণমাধ্যমকর্মী-জে.এম জাবেদ

কে এম জাবেদ / ৬৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং সমাজের দর্পণ। অন্যায়-অবিচার, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জনগণের অধিকারহরণের ঘটনা তুলে ধরাই এর অন্যতম দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক যখন সত্য অনুসন্ধানে নামেন তখন তিনি শুধু একটি সংবাদ তৈরি করেন না।তিনি সমাজের বিবেকের প্রতিনিধিত্ব করেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে সত্য প্রকাশের পথে সবচেয়ে বড় বাধা অনেক সময় বাইরের কোনো শক্তি নয়, বরং গণমাধ্যমের ভেতরের কিছু মানুষ।

মফস্বল সাংবাদিকতা বাংলাদেশের সংবাদ জগতের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি। রাজধানীর বাইরে কর্মরত সাংবাদিকরা সীমিত সুযোগ-সুবিধা, রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক প্রভাব এবং স্থানীয় ক্ষমতাবানদের নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও জনগণের স্বার্থে কাজ করে যান। তারা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য তুলে ধরেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রায়ই দেখা যায় দুর্নীতিবাজদের আগেই কিছু সুবিধাভোগী গণমাধ্যমকর্মী সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

তাদের উদ্দেশ্য থাকে সত্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। অনুসন্ধানী সাংবাদিককে বিতর্কিত করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। কখনো সংবাদকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়।কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হয়।আবার কখনো অর্থ, প্রভাব বা বিজ্ঞাপনের বিনিময়ে দুর্নীতিবাজদের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করা হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন শুধু একজন সাংবাদিক নন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাংবাদিকতার মূল আদর্শ, পেশার মর্যাদা এবং জনগণের আস্থা।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সাধারণত দুটি পক্ষ অস্বস্তিতে পড়ে। প্রথমত অপরাধী ও দুর্নীতিবাজ চক্র। দ্বিতীয়ত তাদের সুবিধাভোগী সহযোগীরা। এই সহযোগীদের মধ্যে যদি গণমাধ্যমকর্মীরাও থাকেন। তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কারণ তারা জানেন কীভাবে একটি সত্য সংবাদকে আড়াল করতে হয়। কীভাবে জনমতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে হয় এবং কীভাবে একজন সৎ সাংবাদিককে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতে হয়।

অনেক ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়।রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি মামলা, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনাও ঘটে। উদ্দেশ্য একটাই যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ সত্য প্রকাশের সাহস না পায়।

প্রশ্ন হলো, সাংবাদিকতার নৈতিকতা কোথায়? সাংবাদিকতা কি কেবল পরিচয়পত্র, প্রভাব কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ অর্জনের মাধ্যম? নাকি এটি এমন একটি মহান দায়িত্ব, যার ভিত্তি সত্য, সততা এবং জনস্বার্থ? একজন প্রকৃত সাংবাদিক কখনো অপরাধীর পাশে দাঁড়াতে পারেন না। তিনি ভুলকে ভুল এবং সত্যকে সত্য বলার সাহস রাখেন। কারণ তার দায়বদ্ধতা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছে নয়। তার দায়বদ্ধতা জনগণের কাছে।

বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সংকট প্রযুক্তিগত নয়, অর্থনৈতিকও নয়। সবচেয়ে বড় সংকট হলো নৈতিকতার অবক্ষয়। যখন কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা করেন।তখন পুরো পেশাটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। জনগণ সংবাদমাধ্যমের প্রতি আস্থা হারাতে শুরু করে।যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

তবে আসল কথা হলো, এখনও অনেক সাংবাদিক রয়েছেন যারা ভয়-ভীতি, প্রলোভন এবং চাপকে উপেক্ষা করে সত্যের পক্ষে কলম ধরেন। তাদের কারণেই সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস বেঁচে আছে। তাদের কারণেই মানুষ এখনও বিশ্বাস করে।সত্যকে সাময়িকভাবে চাপা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তাকে পরাজিত করা যায় না।

গণমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি তার স্বাধীনতা, সততা এবং বিশ্বাসযোগ্যতায়। আর সেই বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার দায়িত্ব সাংবাদিকদেরই। তাই এখন সময় আত্মসমালোচনার। সাংবাদিক সমাজকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।তারা কি সত্যের পক্ষে থাকবে নাকি স্বার্থের কাছে আত্মসমর্পণ করবে? কারণ ইতিহাস শেষ পর্যন্ত তাদেরই মনে রাখে। যারা ক্ষমতার নয়, সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল।

সত্যকে আড়াল করার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কৌশল হলো সত্যের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়া। আর সেই কাজ যদি কোনো গণমাধ্যমকর্মী নিজেই করেন। তবে তিনি শুধু একজন সাংবাদিকের প্রতিপক্ষ নন। তিনি হয়ে ওঠেন সত্য, ন্যায়বিচার এবং পুরো সমাজের প্রতিপক্ষ। কারণ সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য অনুসন্ধান ও জনস্বার্থ রক্ষায়। যখন কোনো সাংবাদিক সত্য প্রকাশে বাধা দেন।সহকর্মীকে হেয় করেন বা ক্ষমতাবানদের স্বার্থে সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।তখন তিনি শুধু পেশার নৈতিকতাই লঙ্ঘন করেন না।জনগণের আস্থার ভিত্তিও দুর্বল করে দেন।

সত্যের পথে বাধা যতই আসুক। প্রকৃত সাংবাদিকতার দায়িত্ব সত্যকে তুলে ধরা। কারণ সংবাদপত্রের কালি শুকিয়ে যায়, কিন্তু সত্যের শক্তি কখনও মুছে যায় না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ