চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকারের উদ্যোগে প্রস্তাবিত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জলিল। এ সময় আবাসিক এলাকার পরিকল্পিত অবকাঠামো রক্ষায় একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবও উপস্থাপন করে চউক।
সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ইতোমধ্যে প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রকল্পের আওতায় চারটি প্রধান সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আলীনগর থেকে টেক্সটাইল এলাকা হয়ে ভাটিয়ারিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে প্রস্তাবিত এ সড়কের সম্ভাব্য রুট চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকার একাধিক প্লটের ওপর দিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে প্লট মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় চউককে সম্পৃক্ত করা হয়নি এবং এতে আবাসিক প্রকল্পের পরিকল্পিত কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জলিল প্রস্তাবিত আলীনগর–সংযোগ সড়ক এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন চউকের প্রধান প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামস এবং সিডিএ সিলিমপুর আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শন শেষে চউকের পক্ষ থেকে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী খালপাড় ঘেঁষে একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। চউক চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান প্রস্তাবিত রুট বাস্তবায়ন হলে সিলিমপুর আবাসিক এলাকার অভ্যন্তরে তিন থেকে চারটি টার্নিং তৈরি হবে, যা আবাসিক এলাকার পরিকল্পিত বিন্যাস, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিকল্প রুট বাস্তবায়িত হলে একদিকে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে আবাসিক এলাকার প্লট মালিকদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে।
এদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা জানান, বিদ্যমান পরিকল্পনা এবং চউকের প্রস্তাবিত বিকল্প রুট—উভয়টির কারিগরি, অর্থনৈতিক ও বাস্তবসম্মত দিক বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে। যে পরিকল্পনাটি ব্যয়সাশ্রয়ী, কার্যকর এবং জনস্বার্থে অধিক উপযোগী হবে, সেটিই চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে সম্পৃক্ত রেখে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আশ্বাসও দেওয়া হয়।