শিরোনাম
প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণে আত্মকর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলছে স্যাম ব্যাটারি রিজেনারেশন কোরআনের হাফেজ তৈরির অঙ্গীকারে গাউছিয়া ছালেকিয়া মাদ্রাসার ছবক অনুষ্ঠান সম্পন্ন চন্দনাইশের বরমায় ৩ হাজার ৫০০ বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে আবদুর রহিম চৌধুরী ফাউন্ডেশনের ত্রাণ বিতরণ আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিনেত্রীর মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের ভিসা জটিলতা নিরসনে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান গ্লোবাল স্টার অ্যাওয়ার্ডে ‘বেস্ট ইন্ট্রাপ্রেনার’ আফরোজা হক বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, বললেন অর্থমন্ত্রী আশ শিফা দিয়ামনি-ই কমিউনিকেশনের স্টার অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত খন্দকার রুহুল আমিন সিআইপি ত্রাণ বিতরণে যুবলীগ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ, সাতকানিয়ায় বিএনপির তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক অনন্য জনপদ
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন

আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিনেত্রীর মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার | হৃদয় খান / ৩৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়ার বিরুদ্ধে মারধর, হত্যাচেষ্টা, শারীরিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মডেল ও অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী (অভিযোগপত্রে নাম উল্লেখ করা হয়েছে ইসরাত জাহান)। এ ঘটনায় তিনি খিলক্ষেত থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগকারীর দাবি, থানায় যাওয়ার পর প্রথমে তার অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

খিলক্ষেত থানায় জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে ইসরাত জাহান উল্লেখ করেন, গত ২৪ জুলাই বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ইমন নামের এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আশিয়ান গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার প্রস্তাব দেন। এ জন্য ১৬ লাখ টাকার একটি চুক্তির বিষয়েও আলোচনা করা হয়। পরবর্তীতে ওই দিন রাত ৮টার দিকে তিনি তার মাকে সঙ্গে নিয়ে খিলক্ষেত থানাধীন ৩০০ ফুট এলাকায় অবস্থিত আশিয়ান মেডিকেল কলেজের একটি অফিসে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান।

অভিযোগে বলা হয়, তার মা বাসায় ফিরে যাওয়ার পর নজরুল ইসলাম ভূইয়া তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “তোকে আমি ছয় মাস ধরে খুঁজছি। তুই আমার টাকায় অন্য একজনকে নিয়ে বাসার পর্দা কিনেছিস।” অভিযোগকারী দাবি করেন, তিনি বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং জানান যে অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্ভবত তাকে অন্য একজন নারী ভেবে ভুল করছেন। তবে তার সঙ্গে থাকা ইমন নামের ব্যক্তি ইশারার মাধ্যমে তাকে অভিযুক্ত ব্যক্তির কথার সঙ্গে সম্মতি জানাতে চাপ দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরাত জাহানের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম ভূইয়া একটি শর্টগান বের করে তাকে গুলি করার হুমকি দেন। এরপর তার হাত-পা বেঁধে ফেলা হয় এবং গলা চেপে ধরা হয়। পাশাপাশি লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে চুল ধরে টেনে মেঝেতে ফেলে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, তাকে জোরপূর্বক কফি পান করানোর চেষ্টা করা হয়। তিনি এতে অস্বীকৃতি জানালে তার মুখে গরম কফি ছুড়ে মারা হয়। পরে একটি কাঁচি হাতে নিয়ে তার মুখমণ্ডল নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তাকে অন্য একজন নারী ভেবে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় মারধরের পর তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক মদের সঙ্গে ওষুধজাতীয় কিছু মিশিয়ে পান করানো হয়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য একটি কক্ষে গেলে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ভবনের প্রথম তলার বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে বাসায় ফিরে যান।

তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর প্রায় এক দিন অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে ২৬ জুলাই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে খিলক্ষেত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানান।

অন্যদিকে, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়া বা আশিয়ান গ্রুপের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে খিলক্ষেত থানার পক্ষ থেকেও অভিযোগ গ্রহণ, মামলা রুজু বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

এদিকে অভিযোগে বর্ণিত ঘটনাগুলোর সত্যতা এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা অন্য কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি বর্তমানে অভিযোগকারীর বক্তব্য ও থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই আলোচনায় রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও তদন্তের ফলাফলের ওপরই ঘটনার প্রকৃত সত্যতা নির্ভর করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ