শিরোনাম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলসের নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত এডভোকেট এম আর মঞ্জু রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে: ডিসি জাহিদ সাংবাদিক কামরুলের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মানববন্ধন চবিতে সিট নিয়ে শিবির-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ চট্টগ্রামে পানি সরবরাহে নতুন পিপিপি মডেল: আমির খসরু কাপ্তাইয়ে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা ‘গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা বিএনপির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতারণা’—মুহাম্মদ শাহজাহান রেলওয়েতে বড় রদবদল: পূর্বাঞ্চলের জিএম সুবক্তগীণ হলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৫ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি

চট্টগ্রামে শ্রমিক ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সভা / ৪১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতা, ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও শিল্প রক্ষা পরিষদ’ আয়োজিত এক প্রতিনিধি সভায় এ দাবি জানানো হয়। ‘বেসরকারিকরণের নীতি প্রত্যাহার করে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পাটকল চালুর দাবিতে জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিভিন্ন মিলের শ্রমিক নেতা ও ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠকদের যৌথসভা’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন জুট মিলের শ্রমিক প্রতিনিধি ও নেতারা অংশ নেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আমির আব্বাস। শ্রমিক নেতা কামাল হোসেন সভা সঞ্চালনা করেন।

সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা দলিলের রহমান, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির বিভাগীয় সমন্বয়ক মৃণাল চৌধুরী, গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ বিশ্বাস, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের ভুলন ভৌমিক এবং গণমুক্তি ইউনিয়নের সমন্বয়ক রাজা মিয়াসহ বিভিন্ন পাটকলের শ্রমিক প্রতিনিধি ও নেতারা।

বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তরের উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তাদের অভিযোগ, আশির দশক থেকে রাষ্ট্রীয় শিল্পের বিরাষ্ট্রীয়করণের যে ধারা শুরু হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে তৎকালীন সরকার দেশের অবশিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এরপর বর্তমান সরকারও একই নীতি অনুসরণ করে পাটকলগুলো দ্রুত বেসরকারিকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে পাটকল ও চিনিকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে টাস্কফোর্স গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে ইতোমধ্যে ১৪টি পাটকল ৩০ বছরের জন্য লিজ বা ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে সভায় দাবি করা হয়।

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, ব্যক্তিমালিকানায় পাটকল লিজ দেওয়ার ফলে কর্মসংস্থান বাড়ার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে তা সংকুচিত হচ্ছে। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাটকল ইজারা নিয়েছে, তাদের অনেকেরই পাটকল পরিচালনা ও পাটপণ্য উৎপাদনের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই বলেও দাবি করেন তারা।

তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাটকলের নামে লিজ নিয়ে পাটপণ্য উৎপাদনের পরিবর্তে অন্য ধরনের পণ্য উৎপাদন কিংবা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জায়গা গুদাম হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রীয় শিল্পের মূল উদ্দেশ্য, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান—দুটিই ব্যাহত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।

সভায় শ্রমিকদের মজুরি ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা দৌলতপুর জুট মিলের উদাহরণ দিয়ে বলেন, একসময় সেখানে ২ হাজার ২৮২ জন শ্রমিক কর্মরত থাকলেও বর্তমানে শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ২০০ জনে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের দৈনিক ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা মজুরি দেওয়া হচ্ছে, যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত নয় বলে তারা দাবি করেন।

বক্তারা বলেন, পাটশিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় শিল্পখাত। এ শিল্পকে ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে না দিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ও চিনিকলসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় শ্রমিক, কৃষক ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।

সভা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারিকরণের উদ্যোগ বাতিল, বন্ধ পাটকল পুনরায় চালু, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত এবং শিল্পখাত রক্ষায় কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ