পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচালিত ‘সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় রাঙামাটি সদর জোনের উদ্যোগে যানবাহন মেরামত প্রশিক্ষণ-২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ১৭ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাঙামাটি সদর জোন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন রাঙামাটি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, পিএসসি।
গত ১১ অক্টোবর শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণে সিএনজি ও মোটরসাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের পরিচিতি, সাধারণ যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেন প্রশিক্ষণার্থীরা।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, পিএসসি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা এবং বেকারত্ব হ্রাস করা অন্যতম লক্ষ্য। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তরুণেরা যেন কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়বে। এর মাধ্যমে তাঁরা সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে স্থানীয় জনগণকে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁরা সিএনজি ও মোটরসাইকেল মেরামত বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। অর্জিত দক্ষতা ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
তাঁরা আরও বলেন, এ প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে নিজেদের বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার এ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি তাঁরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।