শিরোনাম
চন্দনাইশে জুলাই শহীদদের স্মরণে দোয়া, এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ বছর ঘুরলেই বন্যা-ভাঙনের আতঙ্ক, সাতকানিয়ায় নদীশাসনের দাবি বাংলাদেশের ওপর আর কোনো তাবেদারি চলবে না- ভূমি প্রতিমন্ত্রী পরিবেশ সংরক্ষণে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলজ-বনজ গাছের চারা বিতরণ প্রধানমন্ত্রীর বাঁশখালী সফর উপলক্ষে প্রস্তুতি পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের পর্দা নামল সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ৩৫ নম্বর বক্সীরহাট ওয়ার্ডে যুবদলের বৃক্ষরোপণ হাসিনাকে ফেরানোর অভিযোগে চবিতে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি রোগমুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে ওষুধ বিক্রি, সাতকানিয়ায় চার ভুয়া চিকিৎসকের জরিমানা রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে দিকনির্দেশনা
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন

আধ্যাত্মিক সাধনার প্রাণপুরুষ হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান আলী শাহ (রহ.)

বেতাগী দরবার শরীফ থেকে দক্ষিণ ধর্মপুর—ভক্তদের হৃদয়ে অমলিন এক স্মৃতি / ৮৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেতাগী আস্তানা শরীফের আধ্যাত্মিক সাধনার প্রাণপুরুষ, পীরে তরিকত, রাহনুমায়ে শরীয়ত, মুরশিদে বরহক, কুতুবে জামান হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান আলী শাহ (রহ.) ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি সৈয়দুল আজম হযরত হাফেজ হাকিম শাহ মুহাম্মদ বজলুর রহমান (রহ.)-এর যোগ্য উত্তরসূরি ও সাহেবজাদা এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি বেতাগী দরবার শরীফের আশেক-ভক্ত ও মুরিদদের আত্মিক শিক্ষা, ইসলামের দাওয়াত এবং মানবকল্যাণে উৎসর্গ করেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ ধর্মপুর-জাহানপুর ইউনিয়ন এবং রাউজান উপজেলার হলদিয়া-উত্তর সর্তা এলাকায় তিনি নিয়মিত তাশরিফ রাখতেন। এসব অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তাঁর ছিল গভীর আত্মিক সম্পর্ক।

১৯৮৫ সালে তিনি দক্ষিণ ধর্মপুরে তাঁর পিতার স্মৃতিবিজড়িত স্থানে রহমানিয়া মুহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি নিয়মিত মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করতেন এবং এলাকার ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের মতে, দক্ষিণ ধর্মপুরের মানুষের প্রতি তাঁর ছিল বিশেষ ভালোবাসা ও আন্তরিকতা।

দক্ষিণ ধর্মপুরের ভুঁইয়া গাজীর বাড়ির নিবাসী, রহমানিয়া মুহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানি ছিলেন আলী শাহ হুজুরের অত্যন্ত প্রিয় ও একনিষ্ঠ মুরিদ। হুজুর যখনই দক্ষিণ ধর্মপুরে আসতেন, অধিকাংশ সময় তিনি মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানির বাসভবনেই অবস্থান করতেন। পরিবারের সদস্যরাও সর্বদা তাঁর খেদমতে নিয়োজিত থাকতেন এবং তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করতেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলী শাহ হুজুর মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন এবং সবার সামনে তাঁকে “পুত” বলে সম্বোধন করতেন। বর্তমানে তাঁর অবস্থান করা সেই কক্ষটি পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

জানা যায়, ইন্তেকালের প্রায় এক বছর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব পাশে অবস্থিত পিপলস হাসপাতালে মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হুজুরকে দেখতে যান। তাঁদের দেখে হুজুর আবেগাপ্লুত হয়ে নিজ আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের হাতে মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানির মাথায় একটি পাকড়ি পরিয়ে দেন। উপস্থিত ভক্তরা এ ঘটনাকে পীর-মুরিদের গভীর আত্মিক সম্পর্কের এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ৩ মার্চ পিপলস হাসপাতালে আলী শাহ হুজুর আনুষ্ঠানিকভাবে মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে খেলাফত প্রদান করেন। এ সময় তিনি বলেন, “আমাকে আমার পীর ও আমার আব্বাজানের হুকুম মতে মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানিকে খেলাফত প্রদান করতে বাধ্য হলাম।” এরপর তিনি নিজ হাতে তাঁর মাথায় পাকড়ি পরিয়ে খেলাফতের স্বীকৃতি প্রদান করেন।

খেলাফত প্রদান অনুষ্ঠানে মরহুম আলহাজ্ব আলী আহম্মদ কোম্পানির পরিবারের সদস্য, দক্ষিণ ধর্মপুরের শাহ আলম, রাউজানের খাস খাদেম মো. ফোরকান, ব্যবসায়ী দেলোয়ার সওদাগরসহ অসংখ্য মুরিদ ও শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত ছিলেন।

ভক্তদের মতে, হযরত মাওলানা শাহ মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান আলী শাহ (রহ.) শুধু একজন আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবপ্রেম, ইসলামী আদর্শ এবং আত্মশুদ্ধির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও আধ্যাত্মিক অবদান আজও অসংখ্য ভক্তের হৃদয়ে অমলিন হয়ে রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ