দেশের বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা, সমাজসেবক ও খন্দকার গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খন্দকার রুহুল আমিন সিআইপি আশ শিফা দিয়ামনি-ই কমিউনিকেশনের স্টার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন।
গত শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলস্থ আইডিইবি ভবনের মিলনায়তনে আশ শিফা দিয়ামনি-ই কমিউনিকেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে স্টার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। তবে পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ততার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় পরবর্তীতে তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে গিয়ে সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান অপূর্ব সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন।
খন্দকার রুহুল আমিন সিআইপি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পোন্নয়ন ও ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। সফল উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেতা, সংগঠক, মিডিয়া বিশ্লেষক ও সমাজসেবক হিসেবে দেশ-বিদেশে তিনি সুপরিচিত।
১৯৫৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার গালিমপুরের শাহবাদ গ্রামে তাঁর জন্ম। শিক্ষাজীবনে শাহনুরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, সরকারি তিতুমীর কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে ১৯৮০ সালে প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
পরবর্তীতে পারিবারিক চা ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণ করে ‘খন্দকার টি কোম্পানি’-কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। পরে ‘খন্দকার গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হোটেল, রেস্তোরাঁ, কনভেনশন সেন্টার, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স খাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বর্তমানে তিনি হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড ও খন্দকার প্যালেস ইন্টারন্যাশনাল হোটেল লিমিটেডের চেয়ারম্যান।
এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হিসেবে তিনি সাতবার নির্বাচিত হয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিভিন্ন মেয়াদে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি খাদ্য নিরাপত্তা, নিরাপদ খাদ্য, ভেজাল প্রতিরোধ, জালিয়াতি প্রতিরোধ ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দেশের রেস্তোরাঁ শিল্পের আধুনিকায়ন, স্বাস্থ্যবিধি, সেবার মানোন্নয়ন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, মিশর, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মিডিয়া বিশ্লেষক হিসেবেও তিনি সুপরিচিত। বাজেট, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাজারব্যবস্থা, ভোক্তা অধিকার ও অর্থনীতি বিষয়ক বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখে চলেছেন। শিল্প, শিক্ষা, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশ-বিদেশে বহু সম্মাননা ও পদক লাভ করেছেন। এর মধ্যে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক পুরস্কার, অতীশ দীপঙ্কর পদক, বাংলাদেশ জার্নালিস্ট পদক, মাওলানা ভাসানী পদক, শের-ই-বাংলা পদক এবং কবি গোবিন্দ দাস পদক উল্লেখযোগ্য।
দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজের একজন দূরদর্শী সংগঠক, সফল উদ্যোক্তা ও শিল্পোন্নয়নের নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আলহাজ্ব খন্দকার রুহুল আমিন সিআইপি। আশ শিফা দিয়ামনি-ই কমিউনিকেশনের স্টার অ্যাওয়ার্ড তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্মাননা গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার রুহুল আমিন সিআইপি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি প্রয়াত দিয়ামনির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আশ শিফা দিয়ামনি-ই কমিউনিকেশনের উত্তরোত্তর সফলতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।